মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ়, ১৪২৮, ১১ জিলকদ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

আজ কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি: কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য

গোপালগঞ্জ : আজ বৃহস্পতিবার বিদ্রোহ ও কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতার যাদবপুর ১১৯ লাউডন স্ট্রিটের রেড এন্ড কিওর হোমে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

জানাগেছে, ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য। মা সুনীতি দেবী। জন্মের আগেই তাঁর পূর্বপুরুষেরা গোপালগঞ্জ ছেড়ে ভারতে যান। ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও কবির পিতৃপুরুষের নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। কবি সুকান্তের পিতা নিবারণ ভট্রাচার্য্য কলিকাতার কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার সুবাদে কবির পরিবারকে কলিকাতাই থাকতে হতো।

উনিশ শতকের গোড়াতে বিট্রিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ সময় বিপ্লববাদী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের ভেতর থেকে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। ক্ষনজন্মা এ কবি রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো : ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে ‘সুকান্ত সমগ্র’ নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পীসংঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জেলা পরিষদ কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরী স্থাপন করেছেন। এখানে কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর মার্চ মাসে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোন বছরই বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। এ ব্যাপারে অনেকই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কারণে এ বছর বড় পরিসরে কবি সুকান্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যাচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।


error: Content is protected !!