মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ়, ১৪২৮, ১১ জিলকদ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

এখনও বাবুল আক্তারের সন্তানদের খোঁজ পায়নি পিবিআই

এখনও বাবুল আক্তারের সন্তানদের খোঁজ পায়নি পিবিআই

ঢাকা: স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল তার বাসার যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, সেটি ভুল ছিল। পরে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল বাসার আসল ঠিকানা দেন। তবে সেই বাসাতেও বাবুলের দুই সন্তানকে পাওয়া যায়নি।

বাড়িওয়ালার বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, বাবুলকে গ্রেফতারের দিনই তার নতুন স্ত্রী আগের ঘরের দুই সন্তানকে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে গিয়েছেন। এই অবস্থায় দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাদের নানা-নানি।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল ভুল ঠিকানা দিয়েছিল। পরে আবারও জেরার মুখে আসল ঠিকানা দেয়। আমরা সেই বাসায় লোক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। তাদের খোঁজা হচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যেই তাদের অবস্থান জানতে পারবো।’

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গি-বিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রায় ছয় মাস দুই সন্তানকে নিয়ে বাবুল আক্তার খিলগাঁও মেরাদিয়ায় তার শশুর বাড়িতে থাকতেন। তবে কয়েক দিনের মাথায় তদন্তে নতুন মোড় নেয়। এক পর্যায়ে বাবুল আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন। এরপর থেকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে নেমে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ যোগাড়ের পর গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করে। এর আগে পুরানো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় আদালতে। নিহত মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে একই ঘটনায় নতুন একটি মামলা দায়ের করেন। বাবুল গ্রেফতার হওয়ার পর তার দুই সন্তানের নিরাপত্তা ও বৈধ অভিভাবক হিসেবে কার কাছে থাকবে সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বাবুল গ্রেফতারের পর থেকেই মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশারফ অভিযোগ করেছেন, গত সাড়ে তিন বছর ধরে বাবুল আক্তার তাদের দুই নাতি-নাতনির সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ও কথা বলতে পারছেন না। তারা দুই নাতি-নাতনিকে তাদের হেফাজতে দেওয়ার দাবি করেন।
পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে কারও হেফাজতে দিতে হলে আদালতের নির্দেশনা লাগবে। কিন্তু তার আগে তাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। দুই সন্তানকে খুঁজে পেলে বাবুল আক্তারের ইচ্ছা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার দুই সন্তানকে বৈধ অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, বাবুল আক্তার প্রথমে চাতুরতা অবলম্বন করে বাসার ভুল ঠিকানা দিয়েছিলেন। যাতে তার নতুন স্ত্রী ও সন্তানদের কেউ খুঁজে না পায়। কিন্তু পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সত্য তথ্য দিয়েছেন। তারা প্রযুক্তির সহায়তায় বাবুলের নতুন স্ত্রীর অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। বাবুলের নতুন স্ত্রীই তার আগের ঘরের দুই সন্তান কোথায় আছেন তা ভালো বলতে পারবেন। দুই সন্তানকে উদ্ধারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে বৈধ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


error: Content is protected !!