মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ়, ১৪২৮, ১১ জিলকদ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

অসহায় জালালউদ্দিনের বাড়িতে সহায়তা নিয়ে উপস্থিত সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু

অসহায় জালালউদ্দিনের বাড়িতে সহায়তা নিয়ে উপস্থিত সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু

শরীয়তপুর: সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রকর হোগলা গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী জালাল উদ্দিন ব্যাপারীর জরাজীর্ণ একমাত্র ঘরটি। তিনি পরিবার নিয়ে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এই সংবাদটি জানতে পারেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

রোববার (২৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে অসহায় জালাল উদ্দিনের জরাজীর্ণ ঘরটি পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য এবং ঘর তুলতে দুই বান্ডেল টিন ও ২৬ হাজার টাকা দেন । এর আগে ২১ মে সংসদ সদস্যের ছেলে দানিব বিন ইকবাল (আদর) পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে যান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মো. হাফিজুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল ইসলাম ঢালী, জেলা যুবলীগের নেতা সুমন পাহাড়, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম শরিফুল ইসলাম বাবু, সহ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান, সদর পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাজু হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম ব্যাপারী, যুবলীগ নেতা দ্বীন ইসলাম খান, শেখ মোহাম্মদ জামাল প্রমূখ।

রুদ্রকর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে তিন শতাংশ জমি আর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া জরাজীর্ণ ঝুপড়িটি জালাল উদ্দিনের একমাত্র সম্বল। তাদের সংসারে আছে দুই ছেলে নাহিদ ব্যাপারী (১৯), মানসিক প্রতিবন্ধী ওয়ারিদ ব্যাপারী (১৩) ও এক মেয়ে লামিয়া আক্তার (৩)। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনোরকম দিন কাটছে অসহায় জালাল উদ্দিনের পরিবার।

প্রতিবন্ধী জালাল উদ্দিন ব্যাপারীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, ২৫ বছর আগে জালাল উদ্দিনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী আগে দিনমজুরেরর কাজ করতেন। আট বছর যাবত মানসিক প্রতিবন্ধী ও শ্বাসকষ্ট ভুগছেন । কোন কাজ করেন না আমার স্বামী। সংসারে অনেক অভাব। বড় ছেলে নাহিদ দিন মজুরের কাজ করে। ছেলের উপার্জনে সংসার চলে না। সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পরে আমাদের জরাজীর্ণ ঘরটি। একটা ঘর খুবই প্রয়োজন ছিল। স্বামীর চিকিৎসাও প্রয়োজন। এমপি স্যারে স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিছে। ঘরও তুলে দিবে। দোয়া করি আল্লাহ্ এমপি স্যারকে ভালো রাখুক।

প্রতিবন্ধী জালাল উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, আমি গরিব, টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারিনি। বাবার কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি পেয়েছি। সেখানেই একটি ভাঙা ঘর ছিল। তাও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। আজ এমপি টিন ও নগদ টাকা দিল। আমি খুবই খুশি। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে টিনের ঘরে থাকব।

সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম জালাল উদ্দিন ব্যাপারীর থাকার ঘর নাই। মানসিক প্রতিবন্ধী ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছে জানলাম জালাল অনেক অসহায়। তাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টিন ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে তাঁর ঘর সম্পূর্ণ হবে। তাছাড়া জালালের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করা হবে।


error: Content is protected !!