মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮, ১৬ জিলহজ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

২০ ঘন্টার মধ্যেই ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার তদন্ত শেষে কোর্টে চার্জশীট দাখিল 

২০ ঘন্টার মধ্যেই ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার তদন্ত শেষে কোর্টে চার্জশীট দাখিল 
শরীয়তপুর : শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজুর মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার, মামলার আলামত উদ্ধারসহ সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এবং ডিজিটালাইজেশনের কারণে এমন অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে বলে মামলা তদন্ত পুলিশ কর্মকর্তার দাবি। এ ছাড়া শরীয়তপুরে এতো দ্রুত সময়ে ধর্ষণ মামলার চার্জশিট এটিই প্রথম দাখিলের ঘটনা বলে উল্লেখ্য করেন ভেদরগঞ্জ থানার ওসি রশীদুল বারী।

পুলিশ সুত্রে জানাযায়, শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৪ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের করে মহিষার ইউনিয়নের পম-সাজনপুর দারুসসালাম হাফিজিয়া মাদরাসার ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩৮) । এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

বাদীর ১৪ বছরের ভাগ্নে ভেদরগঞ্জ থানাধীন পম-সাজনপুর দারুস সালাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হেফজ বিভাগের ছাত্র। গত ১২ মে আনুমানিক রাত আড়াইটার সময় অভিযুক্ত মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩৮) বাদীর ভাগ্নেকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন। এ ঘটনার পরদিন সকালে ভুক্তভোগী মাদরাসা থেকে বাড়ী চলে যায়। লোকলজ্জার ভয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ট করে ওই ছাত্র। পরে পরিবারের  চাপে তাদের কাছে খুলে বলে ঘটনাটি। পরে পরিবারের লোকজন মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানালে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ  ভিকটিমের পরিবারকে চাপ দিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরবর্তীতে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। গত ১২ জুন স্থানীয় লোকজনদের সাথে ওই মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরী হয়। তখন ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষনের বিষয়টি জানতে পারে। পরে ভিকটিমের মামা  বাদীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ভেদরগঞ্জ থানায় ১৩ জুন সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ  তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামল হওয়ার পর শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান ভেদরগঞ্জ থানার ওসিকে দ্রুত মামলার চার্জশিট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভেদরগঞ্জ থানার ওসি ভেদরগঞ্জ থানার এস আই রিপন রায়কে মামলার তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করে, নির্দেশ পাওয়ার পর রিপন রায় মামলার তদন্ত শুরু করেন। মামলা রুজু হওয়ার  ২০ ঘন্টার মধ্যে আসামীর চার্জশিট  আদালতের মাধ্যমে  প্রেরণ করে।

ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রশীদুল বারী জানান, শরীয়তপুর পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান স্যারের নির্দেশে সকল মামলা দ্রুত সময়ে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্ট করা হয়। এ মামলাটি আমরা দ্রুত সময় গ্রেফতার করে ২০ ঘন্টার মধ্যেই সকল প্রচেষ্টা শেষ করে  আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি।
সম্ভবত ধর্ষণ মামলার এটিই জেলায় এতো স্বল্প সময়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়।


error: Content is protected !!