মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮, ১৬ জিলহজ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

‘আইনের লোক’ পরিচয় দিয়ে  বিট পুলিশিং কার্যালয়ের নথি চুরি !

‘আইনের লোক’ পরিচয় দিয়ে  বিট পুলিশিং কার্যালয়ের নথি চুরি !

নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় ‘আইনের লোক’ পরিচয়ে বিট পুলিশিং কার্যালয়ের নথিপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে ।

গত ২৪ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার ৫নং গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অবস্থিত ওই এলাকার বিট পুলিশিং কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর টনক নড়েছে মান্দা থানা পুলিশের।

মান্দা থানা সূত্রে জানা গেছে, ‘আইনের লোক’ পরিচয়ে ধোকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা ( ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পশ্চিম পার্শ্বে বসবাসকারী) নাইট গার্ড বাবুর বাড়িতে থাকা বিট পুলিশিং কার্যালয়ের চাবি ইউপি সদস্য আলেফ উদ্দিন মৃধার মাধ্যমে বাবুর মেয়ে ডলির কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ওই পাঁচ যুবক ।

এরপর তারা ওই কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মোবাইলফোনে তারা ওই কার্যালয়ের ভিডিও চিত্র ধারণ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ দফতরের ৮টি রেজিস্টার বই চুরি করে তড়িঘড়ি সটকে পড়ে বলে জানা গেছে ।

পুলিশের দাবী, ওইসকল যুবকদের নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন। খোয়া যাওয়া নথিপত্র উদ্ধারসহ জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলেফ উদ্দিন মৃধা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলযোগে পাঁচ যুবক ইউনিয়ন পরিষদে আসে। এরপর তারা ‘আইনের লোক’ পরিচয় দিয়ে বিট পুলিশিং কার্যালয় খুলে দিতে বলেন। পরে পরিষদের নৈশপ্রহরী বাবু মন্ডলের বাসা থেকে চাবি এনে কক্ষটি খুলে দেন তিনি।

ইউপি সদস্য আরো বলেন, ‘আগন্তুক যুবকরা ভেতরে প্রবেশ করে মোবাইলফোনে কক্ষের ভিডিও ধারণসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করছিল। এসময় জন্মনিবন্ধনের কাজে আমি সচিবের কক্ষে যাই। অল্প সময় পর ফিরে আসলে ওইসকল যুবকরা অাইনের লোক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত তুলে আমাকে ধমক দিয়ে কিছু কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। পরে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে নৈশপ্রহরীর বাসায় চাবি দিয়ে আসি’।

নৈশপ্রহরী বাবু মন্ডলের মেয়ে ডলি আক্তার জানান, মেম্বার আলেফ উদ্দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে বিট পুলিশিং অফিসের চাবি নিতে বাড়িতে আসেন। এসময় বাবা বাড়িতে ছিলেন না। মেম্বারের কথায় তাকে চাবি দিয়েছি। কিন্তু অজ্ঞাত লোকজন এসে সেখানে থেকে কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরে জানাজানি হয়েছে।

বিট পুলিশিং কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ তার আগোচরে হয়েছে। গত শনিবার দায়িত্ব পালন করতে কার্যালয়ে গিয়ে কক্ষের ফাইলপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় বিট পুলিশিং কার্যক্রমের ৮টি রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বিষয়টি ওসিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন তিনি।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গনেশপুর বিট পুলিশিং কার্যালয়ের নথিপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় শনিবার থানায় সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। তদন্তে ওইসকল যুবকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। খুব শিগগিরই খোয়া যাওয়া নথিপত্র উদ্ধারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি অবহিত হয়েছি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


error: Content is protected !!