[bangla_day], [english_date], [bangla_date], [hijri_date]
[bangla_day], [english_date]

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাতে দুই নারী লাঞ্ছিত

অভিযুক্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান

শরীয়তপুর :শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুর রহমানেরের হাতে দুই নারী লাঞ্ছিত অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ঐ দুই নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সুত্রে জনা যায়,উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজমা বেগম ও জন্নাত বেগম, তারা দু’জনই গৃহীনি। একজন ছেলে বিদেশ পাঠাতে টাকা প্রয়োজন আর একজনের স্বামীকে মাছ ধরার জাল কিনতে টাকা প্রয়োজন বিধায়  গত পাঁচ মাস আগে ৫০ হাজার করে দুজনে ১ লাখ টাকা লোন নিতে এসেছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে। নিয়ম মেনে লোনের আবেদন করলেও  তার থেকে অফেরতযোগ্য ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয় সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। কিন্তু আবেদনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সেই লোন পেতে দেরি হলে তারা দুইজন সোমবার (২২মে) ভেদরগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয় অফিসারের কাছে আসেন। অফিসার মিজানুর রহমানকে তারা বলেন স্যার আমাদের লোন দিয়ে দেন। অফিসার বলেন, তোমাদের লোন দেয়া যাবে না। পরে ঐ দুই নারী বলেন, তাহলে আমাদের দুইজনের ১০ হাজার টাকাটা ফেরত দিয়ে দিন। আমাদের লোন লাগবে না। আমাদের টাকার অনেক প্রয়োজন। আমরা গরীব মানুষ আমাদের ১০ হাজার টাকা অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়েছি। টাকা ফেরত চাওয়ায় ঐ কর্মকর্তা প্রথমে নাজমাকে থাপ্পর মারেন। এর পরে জান্নাত বাধা দিলে তাকেও ধাক্কা মারতে মারতে অফিসের বাহিরে নিচে ফেলে দেয়। পরে ঐ দুই মহিলা দৌড়ে গিয়ে ইউএনও অফিসের কার্যালয়ের আশ্রয় নেয়। পরে বিচার চেয়ে ইউএনও’র বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বলেন, আমাদের স্বামীদের তেমন কোন ইনকাম নেই। আমার টাকার প্রয়োজন অনেক। ছেলে বিদেশে পাঠাবো বিধায় কিছু টাকা দরকার ছিলো। তাই লোনের আবেদন করি উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে। লোনের টাকা দেক বা না দেক আমাদের কাছ থেকে যে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে তা ফিরত চাইছিলাম। পরে মিজানুর রহমান স্যার আমাদের ৫ হাজার টাকা ফিরত না দিয়ে ওল্টা আমাকে ২ টা চর মারেন। পরে আমি পড়ে যাই। এরপর জান্নাত প্রতিবাদ করলে তাকেও দৌড়ে বাহিরে এসে ধাক্কা দেয়। পরে আমরা ইউএনও স্যারের অফিসে এসে নিরাপদে যাই। আমি একজন নারি এই হামলার বিচার চাই।

ভুক্তভোগী জান্নাত বলেন, সমাজসেবার অফিসার আমাদের লোনের টাকা না দেক আমার থেকে যে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে সেই টাকা তার কাছে কেন থাকবে। সোমবার ৪ টার দিকে অফিসার মিজানুর রহমানকে ফোন করে আমি আর নাজমা অফিসে আসি। অফিসার বলেন আপনাদের লোন দেয়া যাবে না। তাহলে আমাদের দুজনের ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেন বলাতেই আমাদের উপর চড়াও হয়েই প্রথমে নাজমাকে থাপ্পর মারতে থাকে। পরে আমি বাধা দিলে আমাকেও ধাক্কা দিতে থাকে। পরে দৌড়িয়ে বাহিরে বের হইলে আমাকে ঐ অফিসার এসে বোরকা টেনে ধরে।  বলে কই যাস। আমি বলি ইউএনও স্যারকে বলবো।সে বলে তুই যা ইউএনও স্যার বলগা। স্যারকে বলে লাভ নাই।

এবিষয় অভিযুক্ত উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এটা করা হয়েছে। আমি কোন অপকর্মের সাথে জড়িত নই। আমার স্টাফ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কারনে তিনি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে এ সাজানো নাটক করেছে।

জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তদন্ত পূর্বক বিষটির সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, এবিষয় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্য তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের বরাবর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য  লিখিত প্রতিবেদন পাঠানা হবে।


error: Content is protected !!