সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, ২১ শাওয়াল, ১৪৪৩
সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

গোপালগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে আহত, শিক্ষক গ্রেফতার

ছবি: আটক অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় যাবার অপরাধে জোবায়ের শেখ (১৪) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বেত দিয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষক।

এ ঘটনায় গোবরা ইদারায়েত ইসলামীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মঈনুল ইসলামকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষক বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার গ্রীসনগর গ্রামের মাহমুদ শেখের ছেলে।

আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের গোবরা ইদারায়েত ইসলামীয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ওই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ গ্রামের মো: শহর আলী শেখের ছেলে। তাকে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম মামলার বরাত দিয়ে জানান, আহত ওই শিক্ষার্থী জোবায়ের শেখ গোবরা ইদারায়েত ইসলামীয়া মাদ্রাসায় পড়ে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জোবায়ের মাদ্রাসার কাউকে কিছু না বলে বাড়ীতে যায়। পরে সে আবার মাদ্রাসা ফিরে আসে।

সন্ধ্যায় গোবরা ইদারায়েত ইসলামীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মঈনুল ইসলাম না বলে বাড়ীতে যাবার অপরাধে জোবায়েরকে বেত দিয়ে বেদরক মারপিট করে। পরে সে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ীতে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। তার পিঠ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো: শহর আলী শেখ গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই ওই মাদ্রাসায় আভিযান চালিয়ে শিক্ষক মঈনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আহত ওই শিক্ষার্থী জোবায়ের শেখ জানায় শুক্রবার কাউকে না বলে আমি বাড়ীতে যাই। পরে মাদ্রাসায় ফিরে আসি। সন্ধ্যায় ওই শিক্ষক আমাকে বেত দিয়ে মারধর করে। পরে পালিয়ে এসে আমি আমার বাবাকে বিষয়টি জানাই।

আহত ওই শিক্ষার্থীর বাবা শহর আলী শেখ বলেন, আমার ছেলে বাড়ীতে এসে আমাদের সব কিছু জানায়। পরে আমি মাদ্রাসায় গিয়ে বিষয়টি শুনতে যাই। কিন্তু কোন সদুত্তর না পাওয়ায় আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। আমার ছেলেকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই। যাতে আর কোন শিক্ষার্থীর উপর এমন ঘটনা না ঘটে।

তবে এ বিষয়ে গোবরা ইদারায়েত ইসলামীয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য দিতে রাজী হয় নি।


error: Content is protected !!