বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৯, ২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

“২শ’ মিটারের বিড়ম্বনার অবসান”

“২শ’ মিটারের বিড়ম্বনার অবসান”

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ আড়াই ২’শ বেড জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন গোপালগঞ্জ, নড়াইল. বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। হাসপাতালে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় প্রচন্ড ঝাঁকিতে রোগীরা কষ্ট পেতেন। প্রসূতী মায়েদের এখানের ঝাঁকিতে প্রাণ ওঁষ্ঠাগত ছিলো।

এছাড়া এখানে প্রতিদিনই ঘটতো ছোট খাট দুর্ঘটনা। হাসপাতালে প্রবেশের ২শ’ মিটর সড়কে ছোট বড় খানা খন্দের সৃস্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে ছিলো বছরের পর বছর। তাই হাসপাতালে প্রবেশকারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রোগী, চিকিৎসক সহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না।

বিষয়টি গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখে আসে। তিনি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় হাসপাতালে প্রবেশের ২শ’ মিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে জেলা উন্নয়ণ সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেন। জেলা প্রশাসক সড়কটি সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে অনুরোধ করেন।

শনিবার (১৫ জানুয়ারী) সকালে হাসপাতালে প্রবেশের ২শ’ মিটার সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করেছে এলজিইডি। এর মধ্য দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশের ৫০ মিটার সড়কের বিড়ম্বনার অবসান ঘটেছে।

বুধবার (১২ জানুয়ারী) রাত ৮ টা থেকে এলজিইডি সড়কটি সংস্কার শুরু করে। বুধবার রাতেই জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুর রহমান, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

রোগীর স্বজন রোজিনা ইসলাম বলেন,হাসপাতালে প্রবেশের বাস্তায় ছোট-বড় অনেক গর্ত ছিলো। উচু নিচু এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ঝাঁকিতে জীবন বের হয়ে যেত। এছাড়া ছোট খাট দুর্ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন। প্রসূতী ও মারাত্মক আহত রোগীদের জন্য ২শ’ মিটার সড়ক ছিলো যন্ত্রণাদায়ক। সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। এতে আমরা চলাচলের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছি। এ জন্য জেলা প্রশাসন ও এলজিইডিকে ধন্যবাদ।

গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এহসানুল হক বলেন, জন দুর্ভোগ লাঘবের জন্য গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় আমরা হাসপাতালে প্রবেশের সড়কে এ কাজ করেছি। এছাড়া এ কর্মসূচীর আওতায় ইতিমধ্যে আমরা মুকুসুদপুর, কাশিয়ানীসহ ৫ উপজেলার ৩০ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার করেছি। পাশাপাশি ব্রীজ,কালভার্টের ছোটখাট ত্রুটি ঠিক করে দিয়েছে। এ থেকে জেলার লাখ লাখ মানুষ সুফল পাচ্ছেন। জনস্বার্থে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা এ কাজ করার জন্য এলজিইডিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কাজটি ছোট। কিন্তু এ থেকে রোগী সহ হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তিনি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় এ ধরণের কাজ করে এলজিইডিকে সড়ক চলাচলের উপযোগি করে রাখার আহবান জানান । এতে সড়ক ভাল থাকবে। সড়কে সরকারের ব্যয় কমবে। মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল ও পণ্য পরিবহন করে অর্থনৈতিক সহ সব কর্মকান্ড সচল রাখতে পারবে।


error: Content is protected !!