সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, ২১ শাওয়াল, ১৪৪৩
সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যপী শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসব

গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যপী শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসব

গোপালগঞ্জ : শাস্ত্র যাই বলুক না কেন, মনের কথা সুর দিয়ে প্রকাশ করাই সঙ্গীত। সে হোক যন্ত্র, মন্ত্র, কণ্ঠ কিংবা নৃত্যের মাধ্যমে। আর ধারাবাহিকতার আদলে উদ্ভব হয়েছিল সঙ্গীত ও নৃত্যের নতুন নতুন ধারা ও রূপ।

আর এমনই ধারা ও রূপ নিয়ে মুজিব শতবাষির্কী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মত শুরু হয়েছে দুই দিনব্যপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসবের আয়োজন করে। দেশের খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। আজ শুনবার (২৯ জানুয়ারী) রাতে এ উৎসব শেষ হবে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারী) রাতে স্থানীয় শেখ ফজলুল হক মনি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইলিয়াছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার শাস্ত্রীয় সংগীত উৎসবে টিংকু শীল ও অভিজিৎ কুন্ডু (সঙ্গীত ধ্রুপদ), শিউলী ভাট্টাচায্যী (যন্ত্রসঙ্গীত বেহেলা), সাইফুল তানাকার (সঙ্গীত খেয়াল), বিশ্বিজিৎ কুমার নট্ট (যন্ত্রসঙ্গীত তবলায় লহড়া), মৃত্যুঞ্জয় দাস (যন্ত্রসঙ্গীত বাঁশি) ও ড. ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী (সঙ্গীত ধ্রুপদ) পরিবেশন করেন।

আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পযর্ন্ত প্রশান্ত ভৌমিক (যন্ত্রসঙ্গীত তবলায় লহড়া), সুপ্রিয়া দাশ (সঙ্গীত খেয়াল), নাসির উদ্দীন (যন্ত্রসঙ্গীত সারগীট), লতিফুন জুলিও (সঙ্গীত খেয়াল), নিশিত দে (যন্ত্রসঙ্গীত সেতার), অসিত কুমার দে (সঙ্গীত খেয়াল) ও প্রশান্ত কুমার দাস (যন্ত্রসঙ্গীত তবলা) পরিবেশ করবেন।

এ উৎসব দেখেতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেখ ফজলুল হক মনি অডিটরিয়াম কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকই প্রথমবারের মত এ সঙ্গীত উৎসব দেখতে আসেন।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দেখতে আসা সাবেত আহমেদ বলেন, এবারই প্রথম শাস্ত্রীয় সংগীত দেখতে আসলাম ও শুনলাশ। এটা একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সাংস্কৃতিক চর্চা এভাবে চলতে থাকলে আশা করি আমাদের জেলা থেকে এমন শিল্পী বের হয়ে আসবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্র নাথ অধিকারী বলেন, এমন উৎসব আমাদের জেলায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো। এখানে এসে গান শুনলাম। খুব ভাল লেগেছে। আশা করি এমন উৎসব আমাদের জেলার প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসক শাহিদ সুলতানা বলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হলো আমাদের মূল ঘরনার সঙ্গীত। সঙ্গীতের মূল ও উৎস। আমরা যারা শিল্প চর্চা করি তারা সব সময় শুদ্ধ চর্চা ও শুদ্ধতম পথ থেকে সড়ে দাড়াই। আমরা যারা গ্রামে ও শহরে বসবাস করি তারা ইচ্ছা করলেই ভাল শিল্পীর কাছ থেকে শিল্প রস পাই না। আমাদের এখন সাংস্কৃতিক পরিবর্ত জরুরী। যে উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন আশা করি সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হবে।


error: Content is protected !!