বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৯, ২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমরা রমণীর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমরা রমণীর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

ডামুড্যা: শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায় আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমরা রমণীর প্রকল্প ‘Door to Door Mobile Entrepreneurs’ এর দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার দুপুর ১২ টায় শরীয়তপুর -৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক এমপির বাসভবনে ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জের নারী উদ্যাক্তাদের নিয়ে প্রকল্প উদ্বোধন করেন , অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমরা রমণীর চেয়ারপার্সন মালিয়া হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ শরীফ আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন ও আমরা রমণীর কো-অর্ডিনেটর মামুন হোসেন, আমরা রমণীর লোকাল কো-অর্ডিনেটর তাহমিনা কাদের সুধা, ডামুড্যা প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সোহেল ও আমরা রমণী সদস্যবৃন্দ।

এসময় আমরা রমণীর চেয়ারপার্সন মালিয়া হোসেন বলেন, নারী মুক্তি তখনই সম্ভব, যখন নারীরা সমাজের প্রতিটা কর্মকান্ডে সমান গুরুত্ব নিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। আর নারীর মুক্তির ও উন্নয়নের জন্য দরকার নারীর মুক্তিকে বাধা দেয় এমন সব সমস্যার সমাধান। তাই সেই সমস্ত সমস্যা সমাধান করে নারীকে অনুপ্রাণিত করা, নারীকে সচল করা, নারীর ক্ষমতায়নকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমাদের এই ‘আমরা রমণী’এর জন্ম। আজ আমাদের আমরা রমণীর একটি প্রজেক্টের দ্বিতীয় পর্বের শুভ উদ্বোধন, প্রজেক্টির নাম Door to Door Mobile Entrepreneurs। ইতিমধ্যে গত ২০ নভেম্বর আমরা এই প্রজেক্টের প্রথম পর্বের শুভ উদ্বোধন করি। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমরা ১০ জন নারীর হাতে আমাদের উদ্যোক্তা ব্যাগ তুলে দেই। তারপর তারা অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েও এখনও টিকে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট থেকে এই প্রজেক্টে আমরা আরও অনেক সাড়া পাই। তারপর আমরা ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট থেকে আরও ১০ জন নারীকে নির্বাচন করি। কয়েক ধাপে ট্রেনিং প্রদানের পর আজই তাদের হাতে আমরা উদ্যোক্তা ব্যাগ তুলে দিবো।

নির্বাচিত এই মহিলারা আগের নারী উদ্যোক্তাদের মতই ঘরে ঘরে গিয়ে অনলাইন চিকিৎসা প্রদান, মহিলাদের স্বাস্থ্যকর পণ্য বিক্রি ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা প্রদানসহ ইত্যাদি নানা পরিষেবা প্রদান করে থাকবেন। এসব সেবায় থাকছে- স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট, বেবি ডাইপার, ফোন ব্যালেন্স রিচার্জ, সুগার বা ডায়বেটিস মাপা, ব্লাড প্রেশার মাপা, অনলাইন ডক্টর কনসাল্টেন্সি ইত্যাদি।

আমরা রমণী আশা করে নির্বাচিত এই সকল নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের বাড়ির কাজ করার পরও নিজেদের এলাকার মধ্যে থেকে খুব সহজে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এতে করে নিজের পরিবারের ইনকামে তারা অনেকটাই অবদান রাখতে পারবেন। একই সাথে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তারা একটা ব্যবসায়িক মনোভাব তৈরি করতে পারবেন। এতে করে একটা সময় পর তারা নিজেদের একজন সফল ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

আমরা এখানে সবাই সবার সহযোগী, সবাই এক হয়ে কাজ করবো। আমরা ১০ জন মহিলাকে নিয়ে প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম। আজ ১০ জনের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১০ জন এই প্রজেক্ট এর সদস্য হয়েছেন। আশা করি ভবিষ্যতে আমরা আরও সদস্য নিয়ে এই প্রজেক্টকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

আমি আগের অনুষ্ঠানেও বলেছিলাম ‘আমরা রমণী’ একটা গাছের মত আর আমরা সব নারীরা সেই একই গাছের ছায়াতলে থেকে একজন আরেকজনের বোন হয়ে এগিয়ে যাবো ও এগিয়ে নিবো।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শুরুতে জানুয়ারি মাসের সর্বোচ্চ বিক্রির উপর প্রথম তিনজনকে পুরস্কার প্রদান করেন আমরা রমণী।


error: Content is protected !!