সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, ২১ শাওয়াল, ১৪৪৩
সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে ও অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে ও অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এস এম মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে ও অপসারনের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মরকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এস এম মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সমানে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: মাইন উদ্দিন ভূঁইয়াকে অপসারেন দাবীতে বিভিন্ন শ্নোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

পরে শিক্ষার্থীদের তিন সদস্যের একটি দল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বক) মো: রাশেদুর রহমানের কাছের প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ শোনেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ক্লাস রুমের সংকট থাকলেও তিনি তিনটি ক্লাস রুম দখল করে নিজের বাস ভব তৈরী করেছেন, স্কুলের ২৫ কম্পিউটারের মধ্যে ১৫ কম্পিউটার বিক্রি করে দিয়েছেন, বোর্ডকৃত রেজিষ্ট্রশন ফি ১৪৪ টাকার বদলে ৩৫০ টাকা ও টিফিন ফান্ড থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা ভাতা হিসাবে নিয়ে থাকেন তিনি।

এস এম মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আল আমিন বলেন, আমার জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলে পড়াশোনা করি। এখানে আমরা দূর্নীতি শিখতে আসিনি। আমাদের টিফিন ফান্ড থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। যে কারনে আমাদের নিম্নমানের টিফিন দেয়া হয়।

৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাওশীন ইসলাম নাহিয়ান বলেন, আমাদের বেতন হলো ১২৫ টাকা। সেখানে তিন মাসে বেতন হয় ৩৭৫ টাকা। কিন্তু আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮৪০ টাকা কের নিয়েছেন।

১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সিয়াম আহম্মেদ বলেন, আমাদের কম্পিউটার ল্যাবে ২৫টি কম্পিউটার ছিল। কিন্তু এর মধ্যে ১৫টি কম্পিউটার বিক্রি করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। আমারা দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যা কিছু করেছি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে করেছি ব্যক্তিস্বার্থে কিছু করিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বক) মো: রাশেদুর রহমান বলেন, এস এম মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অাভিযোগ এরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। আমি তাদের কথা শুনেছি। শিক্ষার্থীরা একটি অভিযোগ দিয়েছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


error: Content is protected !!