রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪
রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

দুদক কর্মকর্তার পরিচয় চাঁদাবাজি, আওয়ামীলীগ নেতার মামলা

ছবি: কথিত দুদক কর্মকর্তা এম এ ইদ্রিস খান

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে দুদক কর্মকর্তার পরিচয় আওয়ামীলীগ নেতার কাছ থেকে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে ভূয়া দুদক কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করেন সখিপুর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারী।

রোববার (২৫শে সেপ্টেম্বর)  দুপুরে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখিপুর আমলী আদালতে মামলাটি করা হয়।

অভিযুক্ত ভূয়া দুদুক কর্মকর্তা হলেন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার সুজাত খানের ছেলে এম.এ ইদ্রিস খান। অন্য আসামীরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুচড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে এমএ ওয়াদুদ মিয়া, সখিপুর বেড়াচাক্কি এলাকার রোস্তম ভূইয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর ভূইয়া, সোয়েব চৌকিদারের ছেলে হুমায়ুন কবির, ছামিদ ছৈয়ালের ছেলে মোতালেব ছৈয়াল, হেমায়েত মাঝির ছেলে বাচ্চু মাঝি।

মামলা সুত্রে জানাযায়, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সুজাত খানের ছেলে এম.এ ইদ্রিস খান নামে এক ব্যক্তি দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বালুচড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে এমএ ওয়াদুদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি তাঁর মোবাইলে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ চাঁদা চেয়েই ক্ষান্ত হননি কথিত দুদুদ কর্মকর্তা। পরে তাকে ফোন করে ঢাকা দুদক কার্যালয়ে ডাকেন। ঢাকায় দুদক কার্যালয়ে গেলে ওই কথিত দুদক কর্মকর্তা তালবাহানা শুরু করে। তাকে মগবাজারে যেতে বলে সেখানে গেলে তাকে দুদক কার্যলয়ের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন আপনার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। আপনি ২০ লক্ষ টাকা দিলে আপনাকে মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হবে। তখন তার সন্দেহ হলে তার আইডি কার্ড চাইলে তখন তিনি বলেন আমি দুদক কর্মকর্তা না। আমি এনটিভির ক্রাইম রিপোর্টার। পরে এনটিভির পরিচয় পত্র দেখতে চাইলে সেটাও তিনি দেখাতে পারেনি। এর পর তাকে হুমকি দিয়ে বলে আপনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দূর্নীতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এর পরে তার বিরুদ্ধে বাংলার রিপোর্ট নামে একটি পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এতে ওই আওয়ামীলীগ নেতা মনে করেন তার এলাকায় সুনামক্ষুন্ন হয়েছে।

অভিযুক্ত এম এ ওয়াদুদ মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণই ভুয়া। আমি কারও কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেনি। আর আমি তাদের কাউকেই চিনি না।

কথিত দুদক কর্মকর্তা এম এ ইদ্রিস খানকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মামলারবাদী জিতু মিয়া বেপারী বলেন,  আমার আয়বহির্ভূত কোন সম্পদ নেই। আমি প্রতিবছর রাজস্ব ও আয়কর প্রদান করে থাকি। তাদের চাহিদা মোতাবেক চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমার নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে আমি এ কারনে আদালতের দারস্থ হয়েছি।


error: Content is protected !!