নওগাঁর নিয়ামতপুরে আইনগত মতামত উপেক্ষা জমি জবর দখল!

নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুরে জজ কোর্টের আইনজীবির দেয়া মতামত উপেক্ষা করে জমি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার হাজীনগর ইউ’পির কুন্তইল গ্রামের মন্ডল পাড়ায়। প্রতিপক্ষের লোকজন (৪ সেপ্টেম্বর) জমিটি দখলে নেওয়ার পর গত (১৮ সেপ্টেম্বর) পূনরায় বিবাদমান জমিতে আমগাছ রোপনসহ আলামত নিশ্চিন্ন করার জন্য জমিটিতে হালচাষ করছেন।

বর্তমানে সে জমিতে প্রতিপক্ষের লোকজন একটি ইটের ঘর নির্মাণ করে সেখানে গ্লোরী ইঞ্জিঃ লিঃ এর সেলস ও সার্ভিস সেন্টারের সাইনবোর্ড লাগিয়েছে।

সরেজমিন গেলে ভূক্তভোগীরা জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ,পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে কুন্তইল গ্রামের আব্দুল ওহাব মন্ডলের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০), আব্দুল মান্নান (৫২),বেলাল উদ্দিন (৩৮),আব্দুল হান্নান, একই এলাকার কুন্তইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মিষ্টার আলী,তেঘড়িয়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৪৪) গংরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীসহ নিজেরা কুন্তইল গ্রামের মৃত মুজাফ্ফর মন্ডলের ছেলে শাফি উদ্দিন মন্ডলের নিজ নামে খারিজকৃত প্রস্তাবিত ১৮৭ নং খতিয়ানের হাল ১৩১ নং দাগের মোট ৯৬ শতক জমির মধ্যে ২৪ শতক তন্মধ্যে ১৬ শতক জমিতে বেড়া লাগানো হয়।

এসময় বাধা দিতে গেলে ভারাটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে জমি জবরদখলসহ ওই জমিতে থাকা ১০ টি আমগাছ এবং ২ টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেট ফেলে বাড়ির উঠানে পথরোধ করার ঘৃণ্য মন মানষিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে বেড়া লাগানোর পাশাপাশি ওই বিবাদমান জমিটিতে ইটের প্রাচীর নির্মাণ,কলা এবং আম গাছ লাগিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিটি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তারাও আরো জানায় যে, জমিটি পূর্ব পুরুষের যৌথ মালিকানাধীন জমি। বিবাদমান জমিটি একই মৌজার এবং একই খতিয়ানভূক্ত জমি। জমির মোট পরিমান ৭ একর ১০ শতাংশ।

বিবাদমান হাল ৯০ নং খতিয়ানে জমিটির একাধিক দাগ রয়েছে। কিন্তু খতিয়ানের অংশ মোতাবেক যে পরিমান পাবার কথা,সে পরিমান জমি পূরন পাবার পরেও এতোবছর পর দখলীকৃত সম্পত্তি প্রতিপক্ষের লোকজন গায়ের জোরে মোট জমিটি মধ্য থেকে ১৬ শতক জমি দখলে নেয়। সেকারনেই মূলত এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

ঘটনাস্থলে গেলে বাদীপক্ষই জমিটির প্রকৃত মালিক বলে জানান।

ভূক্তভোগী বাদী পক্ষের লোকজনের দাবি, তারা বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসতেছিলো।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিটিং সিটিং হয়েছে। কিন্তু কোন সুরাহা হয় নাই।

তবে জমিটি প্রায় শতাধিক বছর পূর্ব থেকে আমাদের বাপ দাদার বাড়ি ভিটায় দখল পজিশনে হওয়ায় স্থানীয় মাতবররা জমিটির কাগজপত্র যাচাই বাছাই অন্তে আইনগত মতামতের ভিত্তিতে বরাবরই জমিটি আমাদের দখলে দিয়ে যান। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই, আমাদের বাড়ির সামনের জমিতে লাগানো ফলজ এবং বনজ গাছ অন্যায়ভাবে কেটে বেড়া লাগানোর পাশাপাশি জোরপূর্বক ইটের বাউন্ডারি দিয়ে ঘিরে রেখেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষতির সঙ্কা করছেন ভূক্তভোগীরা।

আর সবসময়তো অকথ্যভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত আছেই। আমরা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেছি। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

বাপ দাদার সূত্রে জমির অংশিদার শাফি উদ্দিন মন্ডলের ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান,আমরা দূর্বল মানুষ। আমাদের না আছে টাকা পয়সা, না আছে লোকবল। আমরা তাদের কাছে জিম্মি। এ যেনো জোর যার মূল্লুক তারের মতো অবস্থা।

আমরা দ্বন্দ্বে জড়াতে চাই না।আমরা একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।

প্রতিপক্ষের লোকজন কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার,মন্ডল,মাতবর, থানা,পুলিশ,কোর্ট,কাচারী, আইন,কানুন, আপোষনামা মানে না। ওরা একাই একশো।

এঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে যোগযোগ করা হলে জমি জবর দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে নিউজটি তাদের বিপক্ষে না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

তবে এঘটনায় একটি কথা স্পষ্ট যে, পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ আচরনের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার কিছু ভূমিদস্যু, মুখোরচক মাতবর, চোগলখোর, ভারাটিয়া গুন্ডা বাহিনী, অজ্ঞ মাতবর, দালাল প্রকৃতির লোকজনেরা না জেনে না বুঝে মনগড়া সিদ্ধান্ত দেওয়ার কারনেই বর্তমান সমাজ আজ কুলষিত। আর এজন্যই সমাজে এতো জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদের সৃষ্টি হয় বলে জানান সচেতনরা।

নিয়ামতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সামসুল আলম শাহ বলেন, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।