ঘুষের অর্থ ফেরত দিলেন সহ-ভূমি অফিসার অনিল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান কর্মরত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী ও ভুক্তোভোগীরা। ইতোমধ্যে ফারুক সরদার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছেন সেই সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার।

জানাগেছে, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার নামজারি, নামপত্তন ও খাজনার পরিশোধের রশিদ দেয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র চাইতে কয়েকগুন বেশি টাকা আদায় করে থাকেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, এই ভূমি অফিসের আওতায় রামভদ্রপুর, মহিষার, নারায়নপুর ও ভেদরগঞ্জ পৌরসভা। চার মাস যাবত এই সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার এই ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

যোগদারেন পর থেকে নামজারি ও খাজনা প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। ভূমির খাজনা ও নামজারীর জন্য আবেদন জমা দেয়ার পর ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার নানান খুঁদ বের করে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে। অতিরিক্ত টাকা না পেলে ফাইল ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং অসদাচরন করেন। এছাড়াও ভয়রা নদীসহ আশপাশের হাওয়ড় বাঁওড়ে অবৈধ ড্রেজারের অনুমতি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রামভদ্রপুর গ্রামের ফারুক সরদার ৬ শতাংশ জমির নামজারী করার জন্য আবেদন নিয়ে রামভদ্রপর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার তার কাছে মিউটেশন বাবদ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এক পর্যায় তিনি বাদ্য হয়ে নামজারী জন্য সহকারী ভূীম কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা।

বিষয়টি ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য লোকমূখে জানতে পেরে ভুক্তভোগী ফারুক সরদারকে ডেকে পাঠান। অবশেষে গত ২১ অক্টোবর সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শংকার চন্দ্র বৈদ্যের নির্দেশে ঘষে নেয়া অদিরিক্ত টাকা ফারুক সরদারকে ফেরত দেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার।

এ বিষয়ে ভুক্তোভোগী ফারুক সরদার বলেন, নামজারী করে দেয়ার কথা বলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়। সেমবার দুপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য স্যার আমাকে অফিসে ডেকে বিষয়টি জানতে চায়। আমিও সব স্যারকে বুঝিয়ে বলতে সক্ষম হই। পরে স্যারের নির্দেশে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার আমার কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র কর্মকার বলেন, ভুলে একটা সম্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধাণ হয়েছে। আশা করছি এধরনের ভুল আর হবে না।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, ঘটনাটি দুঃখ জনক। ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের ঘটনা না ঘটে সে দিকে সকলকে সচেতন হতে হবে। আমিও সহকারী ও উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিব।