ভেদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জে অন্যের মালিকানা জমিতে মুক্তিযোদ্ধার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আ. জলিল বেপারী নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে জমির প্রকৃত মালিক শের আলী সরদার নামে এক ব্যক্তি আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন। চাঁদাদাবীর কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারী।

মামলার আর্জি ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কোড়ালতলী গ্রামের শের আলী সরদারের সাথে একই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারীর জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। শের আলী সরদারের বেশিরভাগ জমিই মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারীর বাড়ির নিকট। গত ৬ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারীর বাড়ির নিকটের জমি দেখভাল করার জন্য শের আলী সরদার সেখানে যায়। তখন আ. জলিল বেপারী তার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীসহ লোকজন নিয়ে শের আলী সরদারকে মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। স্থানীয় লোকজন শের আলী বেপারীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। পরক্ষণেই শের আলী সরদারের সেই জমিতে আ. জলিল বেপারী তার মেয়ে নাজমার নামে ফেস্টুন ঝুলিয়ে দেন। ফেস্টুনে লেখা রয়েছে ‘নাজমা ভিলা’। দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী প্রো. বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারী, পিতা মৃত শিকিম আলী বেপারী। ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নং ৭৫৫৬, মুক্তিবার্তা (লাল বই) নং ০১১২০৫০০০৭, গেজেট নং ১৩৮৩। তারপর থেকে দবীকৃত চাঁদা আদায়ের জন্য শের আলী সরদারকে হুমকি প্রদান করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারী ও তার ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রী। এ ঘটনায় শের আলী সরদার গত ১২ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলা নং সি.আর ৬২/২০১৯ (ভেদরগঞ্জ)। ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে মামলার বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত।

মামলার বাদী শের আলী সরদার বলেন, আমার বেশীরভাগ জমিই মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারীর বাড়র নিকট। আ. জলিল বেপারীর সাথে পূর্বে থেকেই আমার বিরোধ চলছে। সেই থেকে আমার জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবী করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল বেপারী। ঘটনার দিন তার বাড়ির নিকটে কোড়ালতলী মৌজার এসএ ১৮৩ নং খতিয়ানের (মিউটেশন খাতিয়ান নং ১০১১) এর ৪২৩ দাগে আমার জমি দেখভাল করতে যাই। তখন মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল তার স্ত্রী-সন্তানসহ লোকজন নিয়ে আমাকে ঘেরাও করে মারধর করে এবং আমার সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। তখন আরও তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবী কওে আসামীরা। চাঁদা আদায়ের জন্য আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শণসহ হুমকি দিতে থাকে। এই বিষয়ে আদালতে মামলা করেছি।
জমি দখল ও চাঁদার দাবীতে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আ. মজিদ বেপারী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে শের আলী সরদারের সাথে আমার অনেক মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। ইতোমধ্যে শের আলী সরদার আমার বিরুদ্ধে তিনটি চাঁদাবাজী মামলা দিয়েছে। একটা থানা থেকে শেষ হয়ে গেছে। আর একটা আমার পক্ষে রায় হওয়ায় বাদী শের আলী আপীল করেছে। এখন আরও একটি মামলা দিয়েছে। আশা করছি তদন্তে এইটাও মিথ্যা প্রমান হবে। মজার কথা হলো আমার স্ত্রী-কন্যা ও সন্তানদের মামলায় আসামী করেছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি তারা শ্বশুর বাড়ি থাকে। আমার ছেলেরা ঢাকায় থাকে। সেখানকার ভোটার আমার ছেলেরা। তারা নাকি চাঁদাবাজী করতে এসেছিল। আসলে পূর্বে যেখানে আমার বসত ঘর ছিল সেই ঘরের ভিটির সামনেই ফেস্টুন লাগাইছি। চাঁদাদাবীর কোন ঘটনাই ঘটেনি। তদন্তেও চাঁদাদাবী প্রমান হবে না।