জয়নগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে৩ যুগ ধরে একই চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন

শরীয়তপুর:.জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে তিন যুগ ধরে নিরলস চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় পণ করেছিলেন পশ্চাতপদের অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে আজীবন সেবা প্রদান করবেন। চিকিসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা শেষ অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার জন্যই চিকিৎসকের পেশা বেছেনেন তিনি। তার কাছে কাছের বা দূরের মানুষ বলতে কোন কথা নাই। দেশের যে কোন এলাকার সকল মানুষই সমান।

বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় তার জন্ম হলেও বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১৯৮৪ সাল থেকে অদ্যবধি চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি জয়নগরবাসীকে সরকারী ভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারবেন। তারপর তিনি সরকারী চাকুরী জীবনের অধ্যায় সমাপ্ত করবেন।
জয়নগরবাসী আপনাকে কিভাবে গ্রহন করেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয়নগর এলাকার মানুষ খুব সচেতন। যে এলাকায় এই চিকিৎসা কেন্দ্র তার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, হাটবাজার সহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে অনেক সহজ-সরল মানুষ আছে। তারা অসুস্থ হলে আমার কাছে আসেন। অফিস টাইমের আগে পরে হলেও তাদের সেবা প্রদানের চেষ্টা করি। জয়নগরবাসী তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাকে গ্রহন করেছেন।
চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী ব্যবসায়ী সোহেল খান, গৃহিনী ফাতেমা বেগম সহ উপস্থিত রোগীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এলাকায় যে সকল যুবক-যুবতীরা রয়েছে (যাদের বয়স ৩৫ বছরের কম) তাদের জন্মের পূর্বে থেকে এই ডাক্তার জয়নগর এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এই ডাক্তার জয়নগরের পরিবেশের সাথে মিশে আছেন। যে কোন সময় যে কোন রোগাক্রান্ত হবে বা সমস্যা নিয়ে আসলে ডাক্তারকে পাই। এই ডাক্তার না থাকলে হয়তো জয়নগরবাসীর অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হতো।

চাকুরী জীবনের সমাপ্তি ঘটলে কী করবেন? জবাবে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শাহজাহান মিয়া বলেন, যেহেতু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জয়নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম অবসরের পরের এই জনপদের মানুষের সেবা করব। অন্তিম সময় এটা ছাড়া আর কিছুই চিন্তা করছি না।

জয়নগরবাসীর সেবায় নিয়জিত থাকাবস্তায় একটা স্মরণীয় ঘটনা বলতে পারবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি এই এলাকার একটা সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে করেছি। যেহেতু আমি এই এলাকার জামাই সেহেতু আমার দায়িত্বও একটু বেশী। যতদূর মনেপড়ে আমার বিয়ের রাতে এলাকার এক সম্মানিত মুরব্বি অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ ব্যক্তির ছেলে আমার কাছে আসে। এসে দেখে আমি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। সে তখন আমাকে তার বাবাকে দেখতে যেতে হবে বলতে সাহস পায়নি। আমার শ্বশুরকে গিয়ে বলেছিল, “আমার বাবাতো অসুস্থ কিন্তু ডাক্তারকে কিভাবে বলব”। তখন আমার শ্বশুর এসে আমাকে বলে, ডাক্তারের কাজ জীবন বাঁচানো। দেখ যদি সম্ভব হয় তাহলে ওর বাবাকে একটু দেখে এসো। আমার ফুল শয্যার রাতে আমি অসুস্থ সেই রোগীর চিকিৎসা করে ভোররাতে বাড়ি ফিরছিলাম। আমার শ্বশুরের কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।