শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮, ২ শাওয়াল, ১৪৪২
শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

ঠাকুরগাঁওয়ে বিলুপ্তির পথে খেজুরের রস।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিলুপ্তির পথে খেজুরের রস।

ঠাকুরগাঁও: ঋতুবৈচিত্যের পালাক্রমে চলছে শীতকাল। শীতের আমেজ আর উৎসবের মৌসুম কাটছে ঠাকুরগাঁও বাসী। এবছর কালীপূজোর পর থেকে শীতের ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আমেজ অনুভব করা যাচ্ছে। সকালে সুন্দর রোদ, তারপর সন্ধ্যে নামতেই হালকা ঠাণ্ডা অনুভূতি। ভোরবেলা কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে।

বাঙালির প্রাণের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা খেজুর রস সংগ্রহ এবং এর ব্যবহার চোখে পড়ে শীত মৌসুমে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার খেজুরের রস। দেখা মিলছে না আর সারি সারি খেজুর গাছ। আর সেই সাথে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে শীতের সকালে খেজুর গাছ থেকে রস আহরনের দৃশ্য, এমনটাই জানালেন রুহিয়ার খেজুর রস প্রিয় প্রেমিকরা।

খেজুরের রস গ্রাম-বাংলার একটি মুখোরোচক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য উপাদানের নাম। এ সময় আমন ধানের আগমন ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত গ্রামের মানুষগুলোকে। এখন কৃষকদের ধান কাটতে দেখা গেলেও গাছীকে খেজুর রস সংগ্রহে দেখা মিলছেনা। সন্ধায় এক সময় লক্ষ্য করা যেত খেজুর গাছের উপরিভাগে মাটির তৈরি ছোট কলসী দিয়ে সুবিধামত জায়গায় স্থাপন করে রস সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে। তারপর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরবেলায় খেজুর রস সংগ্রহের ধুম পড়ে যেতে গ্রামে গ্রামে।

রুহিয়া থানাধীন কদমবাগান গ্রামের খেজুর গাছ চাষী মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, অত্রএলাকায় আমার পিতা মরহুম জহিদুল ইসলাম ৫০০(পাঁচ শত)গাছের বাগান তৈরী করেন,বর্তমানে ২০০টি গাছ রয়েছে । একসময় শীত মৌসুমে খেজুর রস ও খেজুর গুড়ের খুব চাহিদা থাকায় রাজশাহী ও ফরিদপুর থেকে ব্যবসায়িরা রস ক্রয় করতে আসতেন।“যুগের পরিবর্তনে মানুষ একদিকে যেমন আধুনিক হচ্ছে।অন্যদিকে, অতীত ঐতিহ্যকে ভুলে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “অতীতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ খেজুর গাছ বিলুপ্তি হয়ে গেছে।যার কারণে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন গাছীরা।

এলাকাবাসির মতে, কালের পরিক্রমায় দিন দিন মানুষের চাহিদা অন্যরকম হওয়াতে কমেই চলছে খেজুর গাছের সংখ্যা। আর এর বিলুপ্তি ঠেকাতে খেজুর রসের উপকারীতা সম্পর্কে জানা খেজুর বৃক্ষ রোপন ও পরিচর্যায় সকলে এগিয়ে আসতে হবে। নয়তো একদিন আমাদের এই ঐতিহ্যের খেজুর রস ও গুড় হারিয়ে যাবে।


error: Content is protected !!