একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেএত অনিয়মের অভিযোগ!

ভেদরগঞ্জ: ৩৩ নং চরচান্দা মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩টি অনিয়মের অভিযোগ এনে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি), জন প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী অভিভাবকবৃন্দ। ২৪ নভেম্বর অভিযোগপত্র হাতে পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।
লিখিত অভিযোগপত্র, এসএমসি সভাপতি মো. ফারুক মুন্সী, স্থানীয় মো. রোকন উদ্দিন, আবু বকর, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসমি’র সদস্য সচিব আলী আসাদ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের জন্য প্রাপ্ত সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য ফিস গ্রহন, সরকারি বই বিতরণের জন্য টাকা গ্রহন ও উপ-বৃত্তির টাকা থেকে কর্তণ করে থাকেন। বিদ্যালয় চলাকালিন কোচিং করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা, অতিরিক্ত পরীক্ষা ফিস আদায় সহ প্রশংসা পত্র প্রদানে টাকা গ্রহন করে থাকেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিক্রি ও সভাপতির স্বাক্ষর জাল করেন তিনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনা জনিত কারনে অসুস্থ হলে সাহায্যের নামে টাকা তুলে আত্মসাৎ করা, মেয়ে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাবও করেন এই প্রধান শিক্ষক। এই সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীরা মুখ খুললে শারিরিক নির্যাতন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াছমিন ও সরোয়ার বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করায়। কোটিং এর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। বই বিতরণের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে, ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে ভর্তি ফিস, প্রশংসাপত্র ও সনদপত্র বিতরণের জন্য টাকা গ্রহন করেন প্রধান শিক্ষক। আদায়কৃত ওই সকল টাকা কোন খাতে খরচ করেন তা তারা জানেন না।

বিদ্যালয় ভবনের নিকটবর্তী (৩ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী) আমির হোসেন কাজীর স্ত্রী রেনু বেগম বলেন, আমি রান্ন ঘরে বসে প্রধান শিক্ষকের আচার-আচরণ সবই শুনি। ফোর-ফাইভে পড়–য়া মেয়েদের সাথে খুব খাবার আচরণ করে। খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। এমন ভাবে পিটায়। পিটানোর চোটে মা-বাবা বলে কান্দে তবুও ছাড়ে না।

শিক্ষার্থী অভিভাবকগন জানায়, প্রধান শিক্ষক আসাদ কোচিং করায়, পরীক্ষার ফি বেশী ধরে, ভর্তির ফি নেয়। আমরা অনেক সময় স্যারের চাহিদা মত টাকা দিতে পারি না। তখন সে বাচ্চাদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোহাগী ও হালিমা জানায়, প্রধান শিক্ষক তাদের লাইব্রেরীতে টাকা সাধে, খারাপ কথা বলে। তার কু-প্রস্তাব না শুনলে খুব মারে।

একই ক্লাসের রাহুল, মারুফ, সামিরসহ অনেকে জানায়, এক ছাত্র প্রধান শিক্ষকের মোটর সাইকেলে হাত রাখায় তাকে খুব মারপিট করেন। স্যারে ১০টার পরে বিদ্যালয়ে আসে আর যোহরের নামাজ পড়ে চলে যায়। আবার অনেক দিন আসেনও না।

এসএমসি সভাপতি মো. ফারুক আলম মুন্সী বলেন, এই প্রধান শিক্ষক অনেক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে। তার অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পায়। সরকারি স্কুলে ক্লাস চলাকালে টাকার বিনিময়ে কোচিং করানো, বইর বিনিময়ে টাকা ও ভর্তি ফি নেয়া নিয়মে পরিনত করেছেন। এই নিয়ম অন্য কোথাও নাই। সে আমার স্বাক্ষর জাল করেও বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা উঠিয়ে নেয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি। দেখি তারা কি ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এলাকার সম্মান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার্থে নয়তো এলাকাবাসীই ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও এসএমসি’র সহ-সভাপতি মো. কবির মোল্যা বলেন, অভিযোগের বিষয় সম্পূর্ণ সত্য। আমার কাছে এমন অভিযোগ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আসেন। ইতোপূর্বে আমি একাধিক শালিস করেছি। এ প্রধান শিক্ষকের কোন সংশোধন হয়নি।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ বলেন, বিদ্যায়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিন বিদ্যালয়টিকে বাড়ির মত করে ব্যবহার করেন। আমি বাধা দেয়ায় সেই শিক্ষিকা এলাকাবাসী ও কমিটির লোকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। আমি কোন কোচিং বানিজ্য, ভর্তি ফি বা বইর বিনিময়ে টাকা নেই না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২৪ নভেম্বর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ অন্যান্যদের স্বাক্ষরিত একটা অভিযোগ পেয়েছি। ওই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ওই শিক্ষক অভিযুক্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এর পূর্বেও যারা অভিযুক্ত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।