সখিপুরে চলছে অনুমোদনহীন বেসরকারি হাসপাতাল

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের সখিপুরে ডাক্তার, নার্স ও পরিপূর্ণ জনবল ছাড়াই দেদারছে চলছে অনুমোদনহীন বেসরকারি ডায়াবেটিস, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। শর্ত পূরণ করে অনুমোদন নেয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন। অন্যথায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিবেন বলেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। শর্ত পূরণ করে অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম করবেন বলে দাবী করেছেন বেসরকারি ডায়াবেটিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দ।

সরেজমিন পরিদর্শণকালে দেখা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে নিউ ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্যাথলজি পরীক্ষা নীরিক্ষাসহ জরুরী বিভাগ ও রোগী ভর্তি করে ১০ শয্যা হাসপাতালের আদলে ২ মাসেরও বেশী সময় ধরে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। এই হাসপাতল পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রকার অনুমোদন নাই। কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ও জনবল। বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন দেখা যায় নাই।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মিরাজের কাছে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র রয়েছে এবং সে সিভিল সার্জন অফিসে অনুমোদনের জন্য গিয়েছেন বলে দাবী করেন মালিক পক্ষ্যের সাব্বির মাদবর। কিন্তু ম্যানেজার মিরাজের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ কালে জানায় ম্যানেজার মিরাজ ফরিদপুর জেলার গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে রয়েছেন।

এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কামরুজ্জামান মানিক সরদার বলেন, ৪০ জনে মিলে এলাকাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল তৈরী করেছেন। হাসপাতালে সর্বাধুনিক আসবাবপত্র ও মেশিনপত্র কিনেছেন। রীপা পান্ডে নামে একজন ডাক্তার সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকেন। এছাড়াও আরও চারজন ডাক্তার একদিন করে সপ্তাহের চারদিন বসেন। একজন নার্স রয়েছে তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাই। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোতি পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন।

বাজারের গলির ভিতরে সখিপুর ডায়াবেটিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে আরও একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ এবং মার্কেটিং ডিরেক্টরের দায়িত্বরত হারুন অর রাশিদের সাথে আলাপ হয়। আলাপকালে তিনি জানায়, ১২ জন মালিক মিলে এই স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তারা তৈরী করেছেন। এদের মধ্যে প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সমন্বয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হচ্ছেন শামীম মাহমুদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হচ্ছেন প্রকৌশলী আলাউদ্দিন। গত বছরের আগস্ট থেকে ডায়াবেটিক ও ডায়াগনস্টিক সেবা শুরু হয়েছে। এই পর্যন্ত তরা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি পাওয়ার জন্য কোন আবেদন করে নাই। তবে সকর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি সম্মন্ন রয়েছে। খুব শীর্ঘই অনুমোতি পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন।

বাজারে অবস্থিত সখিপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে তবে চলতি অর্থ বছরে নবায়ন হয় নাই বলে নোটিশ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা জানায়, সখিপুরে অবস্থিত নিউ ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল ও সখিপুর ডায়াসেটিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য এই পর্যন্ত কোন আবেদন পাওয়া যায় নাই। তবে সখিপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিগত বছরে অনুমদন ছিল তা হালনাগাদ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, সখিপুরে অবস্থিত তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল পরিদর্শন করি। তাদের মধ্যে দুইটির কোন অনুমোদন নাই। অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠানকে ২ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিপূর্ণ পেপার্স নিয়ে আবেদন করলে পুনরায় পরিদর্শন করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া করা হবে। অন্যথায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে।