নিয়মনীতির বালাই নেই ডামুড্যায় ইচ্ছেমত চলছে অতিদরিদ্রদেরজন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি

ডামুড্যা: শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সভাপতি ও সম্পাদকরা নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করছে না। যার যার ইচ্ছেমত চলছে প্রকল্পসমূহ। কাগজে কলমে প্রকল্পের কাজ ৪০ দিনের হলেও ১০/১২ দিন কাজ করিয়েই প্রকল্প শেষে করা হচ্ছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ৮/১০ দিন কাজ করানোর পর প্রকল্প বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির(ইজিপিপি) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ডামুড্যা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ম পর্যায়ে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির(ইজিপিপি) আওতায় ৩০নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছে ডামুড্যা উপজেলার ৩৬টি প্রকল্পে। ৯৬লাখ ৫৬হাজার টাকা টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে। ৩৬টি প্রকল্পে ১হাজার ২শ’ ৭ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে ৩০শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে প্রকল্প শুরুর দিন থেকে বরাদ্ধকৃত শ্রমিকরা সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদে ৪০দিন কাজ করবে। কাজ শুরুর আগে যে শ্রমিকরা এ প্রকল্পে কাজ করবে তাদের নামে ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। তবে শ্রমিকদের অবশ্যই স্ব স্ব ওয়ার্ডের বাসিন্দা হতে হবে। এ কাজে তাদের মজুরী বাবদ ১শ’ ৭৫ টাকা করে তার নিজ নামের ব্যাংক হিসেবে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বিল হিসেবে প্রদান করা হবে। ৬মাস পরে প্রতি শ্রমিককে প্রতিদিনের বিপরীতে আরও ২৫টাকা করে দেয়া হবে। প্রকল্প শুরুর সাথে সাথে প্রকল্পে শ্রমিক সংখ্যা, মোট বরাদ্ধ ইত্যাদি সম্বলিত একটি সাইন বোর্ড প্রকল্পের দৃশ্যমান জায়গায় ঝুলানোর বিধান রয়েছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কনেশ্বর ইউনিয়নের কেহুর ভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্পে ৪০জন শ্রমিকের বিপরীতে মাত্র ৮জন শ্রমিক কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, ৫জন, ৭জন, ১০জন করেই কাজ করে। সপ্তাহের ৫দিন কাজ করার কথা থাকলও গড়ে ৩/৪দিনের বেশি করে না। একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সুতলকাঠি ডা. আনোয়ার ডাক্তারের বাড়ি হতে ফারুক মাদবরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে কোন শ্রমিককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, শ্রমিকরা আমাদের বাসাতেই ওড়া-কোদাল রেখে যায়। গতকাল বিকেলে নিয়ে গেছে। আজ অন্য রাস্তায় কাজ করার কথা। প্রতিদিন ৭/৮জন শ্রমিক কাজ করতো বলে জানায় ওই গৃহবধূ। ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান মাস্টারের বাড়ির পাকা রাস্তা হতে বোরহান সরদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুর্ণনির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় ৭জন শ্রমিক কাজ করছে। আজকেই তাদের কাজ শেষ বলে জানায় তারা।

দারুল আমান ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গুয়াখোলা মান্নান মাদবরের বাড়ি থেকে পূর্ব ডামুড্যার সীমানা পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে কোন শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় যুবক ইসমাইল জানান, চর এলাকার লোকজন এসে রাস্তার কাজ করতো। এখন ৭/৮দিন যাবত কাজ করে না। কাজ শেষ হয়ে গেছে কিনা জানি না।

সিড্যা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মঙ্গল খার বাড়ি থেকে সুলতান বেপারীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ প্রকল্প, ৫নং ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির পাকা রাস্তা হতে বেপারী বাড়ির জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ এবং ৭নং ওয়ার্ডের রাঢ়ি বাড়ি হতে আলমগির মাদবরের বাড়ি পর্যন্ত ও ৭নং ওয়ার্ডের পাকা রাস্তা হতে নূরুল ইসলাম হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ প্রকল্পে কোন শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, ৫/৬দিন যাবত রাস্তাগুলোর কাজ বন্ধ রয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির পাকা রাস্তা হতে বেপারী বাড়ির জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, মাটির কিছু সমস্যা ছিল তাই ৪/৫দিন যাবত রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছি। প্রকল্পে কোন নারী শ্রমিক আছে কিনা জানতে চাইলে- তিনি বলেন কোথাও নারী শ্রমিক নেই। নারী শ্রমিক পাওয়া যায় না।

ডামুড্যা উপজেলার সব প্রকল্পতে একই অবস্থা চলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি না করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, প্রতি সপ্তাহের বিল প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ব্যাংক হিসেবে দেয়ার কথা। কিন্তু প্রায় ৫ সপ্তাহ কাজ শেষ হয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কর্যালয় বিল না ছাড়ায় বিপাকে পড়েছে অসহায় দরিদ্র শ্রমিকরা। কোন কোন ইউনিয়নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ধার-দেনা করে শ্রমিকদের টাকা দিয়েছে। এতে শ্রমিক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ডামুড্যা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব) তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওযা যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা আল ম্ঈুত বলেন, প্রকল্পে যদি কোন অনিয়ম থেকে থাকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।