চীনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৪৬৫

ঢাকা : লাগামহীন হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস। দ্রুত মহামারিতে রূপ নেওয়া ভাইরাসটিতে প্রতিদিন শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটছে। কেবল তাই নয়, ভাইরাসটির শনাক্তস্থল চীনের সীমানা পেরিয়ে এর প্রাদুর্ভাব আরও অন্তত ২৪টি রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৫ জনে পৌঁছেছে। তাছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজারের অধিক। এর মধ্যে নতুন করে হাজারখানেক লোক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে চীনা স্বাস্থ্য কমিশনের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেওয়া নতুনদের মধ্যে অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের। তাছাড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন আরও তিন লক্ষাধিক মানুষ। সবমিলিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সামনের সারি থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কঠিন মুহূর্তে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার কারণে হুবেই প্রদেশসহ অন্যান্য স্থানের চিকিৎসাসেবা কর্মীদের বেতন তিনগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এছাড়া তাদের বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি প্রদানের কথাও বলা হয়েছে।

বর্তমানে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতসহ বেশকিছু দেশে অজ্ঞাত এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তাছাড়া আতঙ্কে রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানও। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ভাইরাসের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই সম্প্রতি চীনে ভ্রমণ করেছেন কিংবা সেখানে বসবাস করেন।

এমনকি সিঙ্গাপুরেও কয়েকজন বাংলাদেশির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা সকলেই বর্তমানে দেশটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।