মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮, ১৬ জিলহজ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

শরীয়তপুরে সৌদি আরবের খেজুরের বাগান তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন সোলাইমান খান ।

শরীয়তপুরে সৌদি আরবের খেজুরের বাগান তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন সোলাইমান খান ।

শরীয়তপুর:সৌদি আরোবের খেজুরের এখন চাষ করছে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোট কাচনা গ্রামের মো. সোলাইমান খান। সৌদি খেজুরের বাগান তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। পরিচর্যায় গাছগুলোতে এ বছর খেজুর ধরার উপযোগী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বাগানের সবুজ রং মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে। চলতি মৌসুমে বাগানের কিছু গাছে মোচা ও খেজুর ধরেছে । খেজুর বাগান দেখতে আসেন দুরদুরান্ত এলাকার মানুষ।


এক বছর আগে অথাৎ ২০১৯ সালের মে মাসে বন্ধুদের মাধ্যমে প্রথমে সৌদি থেকে পরে গাজিপুর, নরসিংদি জেলা থেকে সৌদি খেজুরের চারা সংগ্রহ করে নিজের বাড়ির পশ্চিম পাশের দুই বিঘা পুরো জমিতে রোপণ করেন। প্রথমে নিজের মতো করে গাছের পরিচর্যা করতে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে খেজুর গাছের যত্ন নিয়ে বিশাল বাগান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি নার্সারি করেছেন তিনি। নার্সারি থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খেজুর চারা বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে তার বাগানে ৪ হাজার মত খেজুর গাছ রয়েছে। যা জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ।

সোলাইমান খান বলেন বাংলাদেশের সব জেলায় খেজুরের বাগান করতে পারে দেশের বেকার যুবকরা । সেই জন্য খেজুর গাছ অল্প খরচে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা গাছে ৩/৪মন পর্যন্ত খেজুর ধরবে বলে সোলাইমানের দাবি।

ছোট কাচনা গ্রামের লোকজন জানান, আমাদের গ্রামের সোলাইমান সৌদির খেজুর চাষ করছেন। কিছু গাছে খেজুরও ধরেছে। চিন্তা করেছি সোলাইমানের থেকে চারা নিয়ে আমিও খেজুর গাছ চাষ করবো।

নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. হুমায়ূন আকন বলেন, আমরা জানি সৌদিতে এই খেজুর চাষ হয়। আর সেই খেজুর চাষ করছে আমাদের গ্রামের সোলাইমান। দুর থেকে অনেকে খেজুর গাছ ও খেজুর দেখতে আসছে। সোলাইনের দেখাদেখি গ্রামের আরও কৃষক খেজুর চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ কুমার বিশ্বাস বলেন, সৌদি আরব থেকে যে খেজুর আসে তা থেকে খেজুরের চারা তৈরি করা যাবে। চারদিন পানিতে ভিজিয়ে জাগ দিয়ে এচারা উৎপাদন করা যায়। তবে ছোট কাচনা গ্রামের সোলাইমান খানের লাগানো খেজুর বাগানের মাটি খেজুর চাষের উপযোগী । কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও দীর্ঘ পরিচর্যার ফলে বাগানের চারাগুলো এখন গাছে পরিনত হয়েছে। বাগানটিতে খেজুর ধরা শুরু করেছে । পাশাপাশি খেজুর চারা বিক্রি করছে তিনি । এ দেখে অনেকেই খেজুর চাষে অগ্রহ হয়ে উঠবে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের খেজুর চাষ টিকিয়ে রাখতে কৃষি বিভাগের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষক ও স্থানীয় কৃষকরা।


error: Content is protected !!