শরীয়তপুরে ধর্ষণে চেষ্টা মামলার আসামীরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে চাপ প্রয়োগ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর ভাষানচর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে রুহুল আমিন বেপারী (৩০) নামে এক লম্পট ধর্ষণের চেষ্টা করে।ধর্ষণের ঘনাটি স্থানীয় বিচারকদেও জানালে এতে ধর্ষণ চেষ্টাকারী রুহুল আমিন ক্ষীপ্ত হয়, পরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসত ঘর ভাংচুরসহ বাপ-ভাইদের মারধর করে ধর্ষণের চেষ্টাকারী রুহুল আমিন ও তার স্বজনরা। এই ঘটনায় পালং মডেল থানায় পেনাল কোড এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুহুল আমিন বেপারী, মোকলেছ রাড়ি, শাহজাহান রাড়ি, আলী হোসেন রাড়ি ও ইকবাল রাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামীরা গ্রেফতার হয়ে গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন লাভ করে। জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসামীরা ধর্ষণের চেষ্টার শিকার ওই ছাত্রী ও মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করছে। মামলা তুলে নিতে রাজি না হলে ওই পরিবারকে নির্যাতণ করে গ্রাম ছাড়া করবে বলেও আসমীরা হুমকি প্রদান করছে। এই অবস্থায় বাদি তার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসামীদের বিচার দাবীতে শনিবার দুপুর ১২টায় শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নির্যাতনে শিকার ওই পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের চেষ্টা মামলার বাদী বেলায়েত হোসেন সরদার বক্তব্যে বলেন, আমার মেয়েকে ৬ মাসের রেখে ওর মা মারা যায়। আমি দ্বিতীয় বিবাহ করি। সেই থেকেই মেয়েটি আমার ছোট স্ত্রীর সাথে থাকে। মেয়েটি কাশিপুর নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে। ছাগলের জন্য ঘাস আনতে ওর মায়ের সাথে মেয়েটিও বাড়ির পাশের পাট ক্ষেতে যায়। ওর মা বাড়ি ফিরে আসলেই রুহুল আমিন বেপারী আমার মেয়ের উপর ধর্ষণের উদ্দেশে ঝাপিয়ে পড়ে। আমার মেয়ের ডাক চিৎসারে আশপাশের পাট ক্ষেতে কাজ করতে থাকা লোকজন আগাইয়া আসে। তখন ধর্ষণের চেষ্টাকারী রুহুল আমিন বেপারী পালিয়ে যায়। পরে রুহুল আমিন বেপারী অন্যান্য আসামীদের নিয়ে এসে আমার বসত ঘর ভাংচুর করে আমার মেয়েকে অপহরণ করতে চেষ্টা করে। আমরা বাঁধা দিলে আমাকেসহ আমার ছেলে ও ভাতিজাকে আসামীরা কুপিয়ে জখম করে। এই বিষয়ে আমি মামলা করি। আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে আমার বাড়ির সামনে দলবল নিয়ে ঘোরা ফেরা করে। আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে। আমার মেয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য রেকর্ডার নিয়ে আসামীরা বাড়ি আসে। মামলা তুলে না নিলে নির্যাতন করে পরিবার সহ আমাকে গ্রাম ছাড়া করবে বলেও হুমকি দেয় আসামীরা। আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। প্রথমে আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবী করছি। এই আসামীরা একই ঘটনা বারবার ঘটিয়েছে। আমি ও আমার পরিবার আসামীদের সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।