শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ৮ কার্তিক, ১৪২৭, ৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নিয়ামত হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মও দুনীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ-দুর্নীীত, স্কুলের মালামর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, স্কুলের মেরামত বরাদ্দ থেকে পরিদর্শনের নামে ঘুষ-বানিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ শিক্ষকরা। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বহাল তবিয়তেই থেকে যাচ্ছেন তিনি। দিনদিন অনিয়ম দুর্নীতির মাত্রাও বৃদ্ধি পচ্ছে। তার অপকর্মের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে উপজেলার শতশত শিক্ষক।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সাধারণ শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নিয়ামত হোসেন ১৭ মে ২০১৮ শরীয়তপুর সদর উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরেন তিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরির্দশনে গিয়ে নানা অজুহাতে মৌখিকভাবে পরের দিন শিক্ষা অফিসে দেখা করতে বলেন শিক্ষকদের। অফিসে এসে ইনভেলাপ দিলেই সব ঠিকঠাক হয়ে যায়। না দিলে নানা কারনে শোকজ করে হয়রানি করা হয় শিক্ষকদের। বদলী, মেডিক্যাল ও মাতৃত্বের ছুটি, টাইমস্কেলসহ সরকার প্রদত্ত শিক্ষকদের নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে তাকে দিতে হয় হাজার হাজার টাকা। টাকা ছাড়া কোন ফাইলেই স্বাক্ষর করেন না এই কর্মকর্তা। তার ভয়ে কোন শিক্ষক মুখ খুলতে সাহস পায় না। বিগত দিনে তার অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলে নানা ভাবে হেনেস্থার শিকার হয়েছেন শিক্ষকরা। কিন্তু তার অনিয়মের কোন বিচার হয়নি। বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। তাই তার সকল অনিয়ন মুখ বুজে হজম করছে শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন প্রধান শিক্ষক জানান, বরাদ্ধ আশার পরে জুন মাসেই তার পছন্দের শিক্ষকদের মাধ্যমে অফিস খরচের টাকা হিসাব সহকারী দেলোয়ার হোসেন অপু’র নিকট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সবাই যার স্কুলে যতটাকা বরাদ্দ আছে সে হিসেবে টাকা অপু’র নিকট দিয়ে এসেছি। আমাদের বরাদ্দের টাকা কিন্তু এখনো পাই নি। জুন মাস শেষ হয়ে গেছে টাকা উত্তোলন করে শিক্ষা অফিসার নিজের কাছে রেখেছেন। এখন আবার সে পরিদর্শন করে কাজ দেখে নাকি টাকা ছাড় করবে। অথ্যাৎ আরেক দফা টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে বিল ছাড়াতে হবে আমাদের। আমরা সামান্য প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে লাভ কি? ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তার পক্ষেই কথা বলবে। বিগত দিনে যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছে সবাইকে চরম মুল্য দিতে হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে লাভ নাই।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লীপ, রুটিন মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক কক্ষ সজ্জিত করণ, বড় মেরামত বাবদ সদর উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নীতিমালা মোতাবেক এ বরাদ্দের টাকা ব্যয় করার কথা। এসব বরাদ্দ থেকে অফিস খরচের নামে প্রতি স্কুল থেকে স্লীপের বরাদ্দ থেকে এক হাজার টাকা, রুটিন মেরামতের থেকে ৫শ টাকা, ওয়াশ ব্লক থেকে ৫ শ টাকা, বড় মেরামত থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। এতে অফিস খরচের নামে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভোরের কাগজ, সমকালসহ জাতীয় বিভিন্ন গনমাধ্যমে নানা অনিয়নম দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হয়েছে। কিন্তু ঊর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৯ সনে সদর উপজেলার ৬৩ নং বিনোদপুর ঢালী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের মালামাল ও কিছু গাছ শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেন বিক্রি বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি মিডিয়া কর্মীরা জানার পরে “শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্কুল ঘর বিক্রির অভিযোগ” শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিন, সমকাল, ভোরের কাগজ, আমার সংবাদসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান শেখ বিক্রিত মালামাল উদ্ধার করে জব্দ করেন। ২ বছর পেরিয়ে গেলেও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ অদৃশ্য কারণে বিষয়টি এখনো নিস্পত্তি করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেন বলেন, একটি মহল পরিকল্পিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করছে। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেই নি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, অভিযোগটি অবশ্যই খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে অবৈধভাবে কোন টাকা নিলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেনকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমিও অভিযোগ পেয়েছি। আমার তো তাকে বদলী করার ক্ষমতা নাই। আমার ক্ষমতা থাকলে আরো আগেই বদলী করে দিতাম। আমি তাকে শোকজ করবো। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।