বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০, ৫ কার্তিক, ১৪২৭, ৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

সাবেক পিপি ও আ.লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন হত্যা মামলার আসামীদের শাস্তির দাবীতে ১৯ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সাবেক পিপি ও আ.লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন হত্যা মামলার আসামীদের শাস্তির দাবীতে ১৯ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: সাবেক পিপি ও আ.লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন হত্যা মামলার আসামীদের শাস্তির দাবীবেতে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতারা ওই হত্যাকান্ডের অভিযুক্তদের বিচার দাবী করেছেন।২০০১ সালের ৫ অক্টোবর গুলি করে হত্যা করা হয় জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেনকে। দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ আটকে আছে আলোচিত ওই হত্যা মামলার বিচার কাজ। এই ১৯ বছরেও শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগকে বিচারের দাবীতে প্রকাশ্যে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি।রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামন থেকে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত যায়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর ১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু। এর পর সেখানে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান,সাধারন সম্পাদক অনল কুমার দে,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গির হোসেন,সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।গত বৃহস্পতিবার ওই হত্যা মামলায় স্বাক্ষ গ্রহন করেছেন আদালত। হাবীবুর রহমান নিহত হওয়ার সময় আইনজীবি সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ছিলেন। আর তার ভাই মনির হোসেন ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সাম্পাদক।  শরীয়তপুর ১ আসনের সাবেক সাংসদ প্রায়ত হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ ও স্থানীয় আ.লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের অভিযোগ ছিল।হাবীবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জানান,হত্যা মামলার আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে কখনো হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেনি ও বিচার পর্যন্ত চায়নি। এমনকি হাবীবুর রহমানের মৃত্যুবাষির্কি পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে হতোনা। বিভিন্ন সময় হত্যা মামলার আসামীরা আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রশ্রয়ে থাকতেন। তাদের সাথে দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নিতেন। ২০১৯ সালে শরীয়তপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের কমিটিতে ওই মামলার আসামী ডাবলু তালুকদার ও বাবুল ফকিরকে সদস্য পদ দেয়া হয়েছে।মামলার স্বাক্ষীগ্রহন শুরু হলে হাবীবুর রহমানের ছেলে পারভেজ রহমান জনের নিরাপত্তার জন্য তার বাসভবন ও কার্যালয়ে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।জানতে চাইলে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান বলেন,হাবীবুর রহমান হত্যা মামলার কোন আসামী কমিটিতে আছে কিনা তা জানা নেই। যদি থাকে তা হলে তাদের বহিস্কার করা হবে। আর আওয়ামীলীগ বিভিন্ন সময় এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছে।মামলার এজাহার ও বাদীর পরিবারের সদস্যরা জানান,২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর ১ আসনে আ.লীগের প্রার্থী ছিলেন জাজিরা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। তখন আওরঙ্গর পক্ষে অবস্থান নেন স্থানীয় আ.লীগের একটি পক্ষ। তখন এ নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ হত। ওই নির্বাচনে জাজিরার কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত হয়। ৮ অক্টোবর সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ৫ অক্টোবর  হাবীবুর রহমানের শহরের বাস ভবনে আ.লীগের প্রার্থীর পক্ষে সভা চলছিল। ওই সভায় হামলা চালায় আওরঙ্গ সমর্থক সাবেক যুবলীগ নেতা সরোয়ার হোসেন বাবুল তালুকদারের লোকজন। সেখানে তার ভাই মন্টু তালুকদার গুলিবিদ্ধ হন। এর কিছু সময় পরে ওই বাসভবনে পুনরায় হামলা করা হয়। তখন হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসে মারা যান।ওই ঘটনায় হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান বাদী হয়ে আওরঙ্গকে প্রধান করে ৫৫ ব্যক্তিকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত করে ওই মামলা থেকে আওরঙ্গর নাম বাদ দিয়ে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযাগেপত্র দায়ের করেন। মামলার বাদী তখন আদালতে নারাজি দেন। আদালত ওই নারাজির আবেদন নামঞ্জুর করেন।এর পর বাদী জিন্নাত হাবীব উচ্চ আদালতে রিট করেন। তৎকালিন সাংসদ আওরঙ্গর প্রভাবে ওই রিট আবেদন দীর্ঘায়ীত হয়। ২০১৩ সালের ৩ আগষ্ট সড়ক দুর্ঘটনায় আওরঙ্গর মৃত্যু হয়। এর পর ওই বছরই উচ্চ আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করার নিদের্শ দেন পুলিশকে। পুলিশ ওই বছর অক্টোবর মাসে আদালতে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।আওরঙ্গ ছারাও ওই মামলার আসামী স্বপন কোতোয়াল,শাহজাহান মাঝি মৃত্যুবরন করেন। আর চার জন চলে গেছেন দেশের বাহিরে। বাকি আসামীরা জামিনে রয়েছেন। অধিকাংশ আসামী এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জরিত রয়েছেন।হাবীবুর রহমানের ছেলে পারভেজ রহমান জন বলেন,আমার বাবা-চাচা আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য প্রান দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায়,কিন্তু তাদের হত্যার বিচার হচ্ছে না এটা আমাদের খুব পিরা দিত। তারা আওয়ামী লীগে মিশে যেতে লাগলো তা ছিল শঙ্কার। বিষয়টি আমি প্রধামন্ত্রীকে জানাই। এখন মামলার স্বাক্ষীগ্রহনের কাজ চলছে,দলীয় নেতারাও পাশে আছেন। আসামী পক্ষ আমাদের অনেক হুমকী ও প্রলোভন দিচ্ছেন। কিন্তু আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও বাবা-চাচার হত্যার বিচার চাই।