বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭, ৯ রবিউস সানি, ১৪৪২
বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

শরীয়তপুরে মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে ইলিশ ধরা

শরীয়তপুরে মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে ইলিশ ধরা

শরীয়তপুর: সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুরেও মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রয় ও মজুতের উপর নিষেদ্ধাজ্ঞা। নিষেদ্ধাজ্ঞা চলবে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের অবাদ বিচরনের পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নিষেদ্ধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস অধিদপ্তর। শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে গোসাইরহাট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী পদ্মা ও মেঘনা নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেদ্ধাজ্ঞা চলাকালীন সময় শরীয়তপুরের নিবন্ধিত প্রায় ১৯ হাজার জেলেকে সরকারীভাবে সহায়তা করা হবে।
মৎস্য বিভাগের সময়পোযোগী এমন সিদ্বান্তে বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। বাড়ছে মৎস্য রপ্তানীতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তবে প্রজনন মৌসুমে অবরোধকালীণ সময়ে ইলিশ জেলেদের সরকারী সহয়তা বাড়ানোর দাবী শরীয়তপুর এলাকার জেলেদের।
মৌসুমের শুরু থেকে শরীয়তপুর এলাকার জেলেদের জালে ছিল ইলিশের অকাল। শেষ সময়ে এসে ধরা পড়ছে রুপালী ইলিশ। ঠিক এসময়েই শুরু হচ্ছে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য মৎস্য শিকারের অবরোধ।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের অবরোধ চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার ( ১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে এর কার্যকারিতা। এসময়ে সারা দেশে ইলিশের সকল ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণসহ ক্রয়- বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীকে এক থেকে ২বছরের জেল অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। ইলিশের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্বিতে মৎস্য বিভাগের এমন সিদ্বান্তে খুশী জেলেরাও। ২২ দিনের এমন কর্মহীন সময়ে জেলেদের জন্য দেয়া হচ্ছে সরকারিভাবে বিশেষ মানবিক সহয়তা। তবে প্রদেয় এ বিশেষ সহযোগিতা বাড়ানোসহ নির্ধারিত সময়েই তা প্রকৃত ইলিশ শিকারীদের মাঝে বিতরণের দাবী জেলেদের।
ঠান্ডার বাজার মৎস ব্যবসায়ী মোঃ মোশারফ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ইলিশ শিকারী জেলে সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা ছোট ছোট জাল নিয়ে নদী বা খালে মাছ শিকার করে তারা পাচ্ছেন সহায়তা।
কোদালপুর ৬ নং আড়ৎ এর মৎস্য ব্যবসায়ী সুলতান মৃধা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে বাড়বে মাছের উৎপাদন। যার সুফল ভোগ করবে জেলেসহ ব্যবসায়ীরা। সুফল বুঝতে পেরে কোন জেলেই এখন আর অবরোধকালীন সময়ে মাছ শিকার করতে যাচ্ছে না। তবে এসময়ে জেলেদের যে সহায়তা দেয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল। জেলেদের সহায়তা বাড়ানো উচিত।
জেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, জেলেদের সচেতন করতে মৎস অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রচার প্রচারনা চালানোর পাশাপাশি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলে সমাবেশ করা হয়েছে। নিষেদ্ধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগের উদ্যোগে নদীতে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে। কোষ্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও র‌্যাব নদীতে নিয়মিত টহল দিবে বলে জানিয়েছে মৎস বিভাগ।