সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি, ১৪৪২
সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

পঞ্চগড়ে নির্মাণের ১ মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়লো কালর্ভাট

পঞ্চগড়ে নির্মাণের ১ মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়লো কালর্ভাট

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলা ১নং অমরখানা ইউনিয়নে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরী নির্মাণের ১ মাসের মধ্যে ভেঙে পড়েছে কালর্ভাট। এতে ভোগান্তি পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলাধীন ১নং অমরখানা ইউনিয়নের বড় কামাত এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া কালর্ভাটের এমন চিত্র । গত ১ মাস পূর্বে অমরখানা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক গত ১মাস আগে এলজিএসপি প্রকল্পের-৩ অর্থায়নে বড় কামাত এলাকার তসিরের বাড়ির সামনে কাচা সড়কে এ কালর্ভাটি নির্মাণ করেন। জানা গেছে, ফজলুল হক নামে ওই ইউপি সদস্য গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি প্রকল্পের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই কালর্ভাটি নির্মাণ করেন ।
এদিকে গত ১১ অক্টোবর (রোববার) বিকেলে একটি ট্রাক কালর্ভাটের উপর উঠামাত্র ভেঙে পড়ে যায় কালর্ভাটের একাংশ,আর এতে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। কালর্ভাটটি অপরিকল্পিত ভাবে ও নিম্নমানের সিমেন্ট, বালি,পাথর ও রড ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়ছে যা কালর্ভাটের ভেঙে যাওয়া অংশে দেখা যায়। দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও সেখানে ফজলুল হক নামে ইউপি সদস্য কয়েক হাজার টাকা খরচ করে দায়সারা কাজ করে এখন বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরছেন। তাছাড়া এলজিএসপি এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর অবহেলা ও উদাসীনতার কথা জানান স্থানীয়রা। কারন কালর্ভাটি ইউপি সদস্য তার খেয়ালখুশি মতো নির্মাণ করেছেন যার ফলে নির্মাণের কয়েক দিন পর ভেঙে পড়েছে ।
এদিকে স্থানীয় ও পথচারীরা জানান, দেড় লক্ষ টাকার দিয়ে কালর্ভাটি তৈরী করা হয়েছে কিন্তু ইউপি সদস্য ফজলুল হক অল্প খরচে নাম মাত্র কালর্ভাট তৈরী করে দিয়েছে নিম্ন মানে সামগ্রী দিয়ে। নির্মাণের ১ মাসের মাথায় ভেঙে পড়েছে কালর্ভাটি,এতে সাধারণ মানুষদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। সরকারের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থার দাবী জানান স্থানীয়রা।
এবিষয়ে অমরখানা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক এর কাছে,বিষয়টি জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে জানান, এলজিএসপি -৩ বরাদ্দ আসায় আমি কালর্ভাটটি নির্মাণ করেছি এবং ইন্জিনিয়ার প্লান অনুযায়ী আমি কাজ করেছি।
এবিষয়ে ১ নং অমখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজ্জামান নুরু জানান,এলজিএসপি প্রকল্পের ৭নং ওয়ার্ডেট ইউপি সদস্য ফজলুল হক তার ওয়ার্ডের বড় কামাত এলাকায় সড়ককে যে কালর্ভাটটি নির্মাণ করা হয়েছে সে কালর্ভাটে একটি ট্রাক উঠা মাত্র ভেঙে গেছে এমন খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে আমি প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এবিষয়ে এলজিআরডি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ তিনি জানান আমি প্লান তৈরী করে দিয়েছি। কাজ করার দায়ীত্ব ইউনিয়ন পরিষদের।
এদিকে পঞ্চগড় এলজিআরডি প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, এলজিএসপি-৩ কাজ আমাদের আওতায় পড়লেও এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের সকল দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের। তবে আমরা শুধু নকশা ও কাজের প্লান তৈরী করে দেই তারা সে অনুযায়ী কাজ করেন। কাজের সময় আমাদের একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট থাকেন তিনি বিষয়গুলো দেখভাল করেন। কালর্ভাট ভেঙ্গে গেছে খবরটি আমার কাছে এসেছে আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।