সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১ মাঘ, ১৪২৭, ১১ জমাদিউস সানি, ১৪৪২
সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

নারী সহকর্মীকে কু প্রস্তাব দেয়ায় অভয়নগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নারী সহকর্মীকে কু প্রস্তাব দেয়ায় অভয়নগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

যশোর: নারী সহকর্মীকে কু প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠার পর অভয়নগরের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মো: রুবেলকে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের ১৯.০১৪.১৯-১০৬৫ নং স্মারকে তাকে অধিদপ্তরে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় ।
সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, অভয়নগরের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যম এক নারী সহকারী প্রোগ্রামারকে কু প্রস্তাব দিতেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া তারা দুজনে মিলে ঐ নারীকে নানাভাবে হয়রানীর পাশাপাশি অফিস সময়ের পরে নির্বাহী অফিসারের কক্ষে ডাকতেন। না গেলে তাকে নানা ভাবে হুমকি প্রদান করা হতো। ইউএনও’র একাজে সহযোগী ছিলেন তার অনুগত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মো: রুবেল।
সম্প্রতি এই উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকতা ভুক্তভোগী ওই নারী সহকারী প্রোগ্রামারকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এমন একটি অডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ওই অডিও কল রেকর্ডে পিআইও নিজেকে খুলনার সেরা রংবাজ বলে সহকারী প্রোগ্রামারকে হুমকি দেন।
লিখিত অভিযোগে নারী সহকারী প্রোগ্রামার বলেন, বর্তমান পিআইও সাহেবের মাধ্যমে ইউএনও স্যার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন। তিনি বলতেন, ইউএনও স্যারের হতাশা দুর করা এপি হিসেবে আমার দ্বায়িত্ব, এই হতাশা স্ত্রী না অন্য কোন নারীই কাটাতে পারে। আমি যেনো এই হতাশা কাটাই, স্যারকে যেন সঙ্গ দিই…। বর্তমান ইউএনও স্যার নিজেও তাকে বলেছেন, উপজেলায় এপির কাজ হচ্ছে, তার আশেপাশে থেকে সব কাজ করা, টেকনিক্যাল কাজের বাইরেও অনেক কাজ থাকে সেগুলো করা এবং মুখে না বললেও অনেক কিছু বুঝে নিয়ে তা করা।
ওই সহকারী প্রোগ্রামার এঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের পর ২৪ ডিসেম্বর তাকে তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ৫৬.০৪.০০০০.০০৮.১৯.০০১.১৬.১৪৯৬ স্মারকে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলা কার্যালয়ে বদলির পাশাপাশি একই আদেশে আগারগাঁও ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সিতে সংযুক্তি করা হয়।
এদিকে সহকারী প্রোগ্রামারের অভিযোগে উল্লেখিত মুল অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খানের বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি । তবে তার সহযোগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মো: রুবেলকে অন্তত প্রত্যাহার করা হবে।
ঘটনার ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, অভিযোগটি আমি শুনেছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।