সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১ মাঘ, ১৪২৭, ১১ জমাদিউস সানি, ১৪৪২
সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

প্রতিপক্ষের হামলায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অজ্ঞান কাউন্সিলর প্রার্থী

প্রতিপক্ষের হামলায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অজ্ঞান কাউন্সিলর প্রার্থী

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের ধানুকা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ সরদার ও তার সমর্থকদের হামলায় আহত হয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফরিদ শেখ (৪০) সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোতালেব শেখের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় আরো আটজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক আব্দুস সামাদ তালুকদার (৭০), রমিজ উদ্দিন শরীফ (৬০), মানিক খান (২০), আজাহার নক্তি (৩৮), আসিফ সিকদার (২১), রাসেল মাঝি রাজু (২৫), জাকির ব্যাপারী (৩৪) ও খবির শেখ (৩৮)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী ১৬ জানুয়ারি শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাচন। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার নৌকার মেয়র প্রার্থী পারভেজ রহমান জন ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পথসভা করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বর্তমান কাউন্সিলর (কাউন্সিলর প্রার্থী, পানির বোতল প্রতীক) আব্দুর রশিদ সরদার ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফরিদ শেখ, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ইমু আক্তার।
তিনি বলেন, পথসভায় বক্তব্য রাখছিলেন কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ সরদারের ভাই আলো সরদার। একপর্যায়ে ফরিদ-রশিদের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ফরিদ শেখসহ নয়জন আহত হন। মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হলে  কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ফরিদ শেখ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ফরিদ শেখের সমর্থক জাকির ব্যাপারী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পথসভায় কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ সরদারের ভাই আলো সরদার ফরিদ শেখের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তখন ফরিদ ভাই বলেন, আওয়ামী লীগের পথসভায় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন কেন? বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর হামলা চালায় রশিদ সরদারের সমর্থকরা। হামলায় আমার নেতা ফরিদ শেখ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমাদের অনেকে আহত হয়েছে। যারা হামলা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ সরদার ফোনে বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থীর পথসভা চলচিল। সেখানে ফরিদ শেখ ইউনিয়ন থেকে ভারাটিয়াদের এনেছে। তাই মারামারি হয়েছে শুনেছি।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী সভায় ফরিদ-রশিদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসলে তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।