শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৪ ফাল্গুন, ১৪২৭, ১৪ রজব, ১৪৪২
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এক পা ও এক হাত ভেঙ্গে দিয়েছেন স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী বাহীনীর কর্মীরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন শেখ হাসিনার মোহাম্মাদ আলী

এক পা ও এক হাত ভেঙ্গে দিয়েছেন স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী বাহীনীর কর্মীরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন শেখ হাসিনার মোহাম্মাদ আলী

শরীয়তপুর: আন্দোলন সংগ্রামে সুখে-দুঃখে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সরকারের সকল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত পরিচিত ফেষ্টুন বহনকারী মোহাম্মাদ আলী (৪০)। তৃতীয় ধাপে ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নৌকার ভোট চাওয়া এবং আওয়ামীলীগের উন্নয়নের বার্তা সাধারন জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি সকালে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ভেদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র আবুল বাশার চৌকদারের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে চাপাতি, রাম দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী বর্তমান ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল বাশারের ৩০-৪০ জন নেতা-কর্মী। তাঁরা মোহাম্মাদ আলীর এক হাত ও এক পা পিটিয়ে ভেঙ্গে দেন। ভেঙে দেওয়া হয় হাত ও পায়ের হাড়ও।
মোহাম্মাদ আলী এখন প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও ব্যথায় কাতরাচ্ছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বিছানায়। হাসপাতালে বৃদ্ধ মা তাঁর দেখভাল করছেন। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। করোনাকালে আওয়ামী লীগের দলীয় সভা-সমাবেশ না থাকায় মোহাম্মাদ আলীর জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়ে। কয়েক মাসের বাসা ভাড়া বকেয়া রেখে শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী সন্দীপ গ্রামে চলে আসেন মোহাম্মাদ আলী। মা,এক ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে এখন গ্রামের বাড়িতে আছেন মোহাম্মাদ আলী। বর্তমানে আওয়ামীলীগের প্রোগাম থাকায় ও নির্বাচন থাকায় মাথায় নৌকা নিয়ে আওয়ামীলীগের উন্নয়নের বার্তা ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ছিলেন মোহাম্মাদ আলী াকন্তু তার এই প্রচারণায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার উপর হামলা চালায় আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা।
১ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৭ নম্বর বিছানায় পা থেকে বুক পর্যন্ত লাল কম্বল মুড়ি দিয়ে পড়ে আছেন শীর্ণ দেহের মোহাম্মাদ আলী। মোহাম্মাদ আলী জানান, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান নির্বাচিত মেয়র আবুল বাশার চৌকদারের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুর জাব্বার রাঢ়ীসহ তাদের নেতা কর্মী ৩০-৪০ জন কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে মারধর শুরু করে। তিনি যে নৌকাটি ২৫ বছর ধরে বহন করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন সেই নৌকাটিও ভেঙ্গে দেয়। তার এই হামলার ঘটনায় সাবেক মেয়র বর্তমান আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হাজী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ভেদরগঞ্জ থানায় বাদী মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তারা প্রকাশে ঘোরাফেরা করছেন। মোহাম্মাদ আলীর একটিই দাবি যারা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, শেখ হাসিনার নৌকাকে ভাঙ্গছে তাদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়া হোক।
প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মোহাম্মাদ আলী। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকেরা তাঁকে ঠিকমতো দেখতেও আসেন না, খোঁজখবর নেন না। অনেক ওষধু ও ইনজেকশন হাসপাতালের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
মোহাম্মাদ আলীর সঙ্গে কথা বলার সময়ই তার মা সাহিদা বেগমের সাথে কথা হয়, তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে এক মাত্র সংসারে উপর্জনকারী, আজকে যারা আমার ছেলেকে মারধর করলেন আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। তার কিছু হলে আমরা কোথায় যাবো।
মোহাম্মাদ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভেদরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আব্দুল বাকীর বলেন, ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান নির্বাচিত মেয়র প্রার্থীর তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু মূল আসামিদের কেউ এখন এলাকায় নেই। বাকীদের গ্রেফতারের আমাদের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী, বর্তমান মেয়র আবুল বাশার চৌকদার জানান, এ হামলার সাথে তার কর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।


error: Content is protected !!