বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৯ বৈশাখ, ১৪২৮, ৯ রমজান, ১৪৪২
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

রাজবাড়ীতে ধর্ষণমামলার ৬ আসামীর যাবজ্জীবন !

ছবি ধর্ষককারী ও ধর্ষকের সহায়তাকারী

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে ধর্ষণমামলার ৬ জন আসামীকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর বিচারক শারমিন নিগার ।

১৬ই মার্চ ( মঙ্গলবার) দুপুরে এ রায় ঘোষনা করা হয় বিচারক শারমিন নিগারের আদালতে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন আল আমিন ফকির ,মোস্তফা ফকির মোস্ত,(পলাতক) আকাশ সরকার, ফজলুর রহমান, কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনআইন ২০০০-এর (৯)৩ ধারায় দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্তক্রমে তাদেরপ্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ,২০০০-এর৯(৩)/৩০ ধারায় দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের সহযোগীতা করায় দোষী সাব্যস্তক্রমে সুজন , বাবুব্যাপারী ওরফে কমান্ডার, কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজারটাকা অর্থ অনাদায়ে আরো ৬ মাসের  সশ্রমকারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেমর্মে সাজাপরোয়ানা এবং অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৮৬(১)(ক) ধারায় পরোয়ানাইস্যু করার রায় প্রদান করা হয়।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. আশ্রাফুল ইসলাম আশা , এড. আঃ বারী ও রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী এড.উমা সেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর বিচারিক শারমিন নিগার এ রায় প্রদান করেন।

মামলার এজাহারসূত্রে জানায়ায়, মামলার বাদী ২০১৮ সালে এস এস সি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০১৯ সালে এস এস সি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় শহরের ড্রাই আইচ ফ্যাক্টরি এলাকার মৃত ইউনুচ খা’র ছেলে সুজনের সাথে বাদিনীর ৩/৪ মাস পূর্বে পরিচয় হয়। পরে মোবাইলে কথাবার্তা চলতে থাকে পরে প্রেম। আর প্রেমের সম্পর্ক ধরেই সুজন ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিছুদিন পর মেয়েটি জানতে পারে সুজন বিবাহিত। পরে সে সুজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়। পরে ওই মেয়ে ২৮শে জানুয়ারি ১৯ তারিখে রেললাইন দিয়ে হেটে বাড়ী যাওয়ার সময় পথে বাধা সৃষ্টি করে সুজন এসে তার সাথে কথা বলে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে শহরের ড্রাই আইচ ফ্যাক্টরিরমোড়ে নিয়ে যায়। পরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সুজন এক পর্যায়ে রাগান্বিতহয়ে যায়। পরে মেয়েটি ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর সুজন মুঠোফোনে রিক্সা যোগে এসে সুজনের মায়ের সাথে কথা বলাবে বলে রিক্সায় করে ড্রাই আইচ মোড় দিকে যায় এ সময় অন্যান্য আসামীরাও অটোতে করে পেছনে আসতে থাকে। সেখানে ড্রাই আইচ এলাকায় আমিরুল মাস্টারের মেসের সামনে আসামী বাবু ও ফজলু দাঁড়ানো ছিলো। সুজন আমাকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে সুকৌশলে তার মাকে নিয়ে আসার কথা বলে পালিয়ে যায়। পরে ওইখানে থাকা আমিরুল মাষ্টারের পরিত্যাক্ত মেসে আক্তার ফকিরের ছেলে আল আমিন ফকির, মৃত, নুর আলী ফকিরের ছেলে মোস্তফা ফকির, নারু কুমার সরকারের ছেলে আকাশ সরকার , খালেক প্রামানিক এর ছেলে ফজলুর রহমান মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে । এসময় মৃত আবুল বেপারীর ছেলে বাবু বেপারী বাহিড়ে দিয়ে পাহাড়া দেয়। পরে মেয়েটি পালাক্রমে ধর্ষণের ফলে অসুস্থ্য হয়ে পরে। পরে তার কান্নাকাটির শব্দে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাদের সহায়তায় মেয়েটি ফিরে আসে।

পরে সে বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ২০০০সালেরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন( সংশোধনী/০৩)এর ৯(৩)/৩০ দায়ের করে। রাজবাড়ী সদরথানার মামলা নং- ৫১ ।


error: Content is protected !!