বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৯ বৈশাখ, ১৪২৮, ৯ রমজান, ১৪৪২
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

শরীয়তপুরের সাবেক পিপি হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন হত্যা মামলায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছে আদালত

শরীয়তপুরের সাবেক পিপি হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন হত্যা মামলায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছে আদালত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দিয়েছেন আদালত। মামলার আরও ৩৯ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রোববার (২১ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত হোসাইন এ রায় প্রদান করেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন শহীদ তালুকদার, শাহিন কোতোয়াল, শহীদ কোতোয়াল, সফিক কোতোয়াল, মো. সোলায়মান সরদার ও মো. মজিবর রহমান তালুকদার।

যাবজ্জীবন পাওয়ারা হলেন সরোয়ার হোসেন বাবুল তালুকদার, ডাবলু তালুকদার, বাবুল খান ও আব্দুর রশিদ।

এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে মন্টু তালুকদার, জাকির হোসেন মঞ্জু ও আসলাম সরদারকে সাজা দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। যার মধ্যে দুইজন ফাঁসির দণ্ড পাওয়া।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ আলোচিত এ মামলায় আদালতে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। গত ৯ মার্চ ও ১৮ মার্চ ছিল রায়ের তারিখ ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে রোববার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার ও বাদীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোবারেক আলী সিকদার ও স্বতন্ত্রী প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেবের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ৮ অক্টোবর ওইসব কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই ভোটের আগে ৫ তারিখ হাবিবুর রহমানের বাসভবনের শয়নকক্ষে আওয়ামী লীগের সভা চলছিল। ওই সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ্ আওরঙ্গজেবের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে গুলি করে এ্যাডভোকেট হাবিবুর ও তার ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের নেতা মনির মুন্সিকে হত্যা করে।

হাবিবুর রহমান ছিলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর তার ভাই মনির হোসেন মুন্সি ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান হেমায়েতউল্লাহ্ আওরঙ্গ কে প্রধান আসামি করে ৫৫ জনের নামে হত্যা একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে হেমায়েতেউল্লাহ্ আওরঙ্গের নাম বাদ দিয়ে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলার বাদী আদালতে নারাজি দেন। আদালত ওই আবেদন নাকচ করে। হেমায়েত উল্লাহ্ আওরঙ্গ পরবর্তী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মামলায় নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৩ সালের ৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় হেমায়েতউল্লাহ্ আওরঙ্গ মারা যান। এরপর আদালত মামলাটি পুনঃরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৩ সালে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দেয় পুলিশ। ওই মামলার অন্য দুই আসামি শাহজাহান মাঝি ও সান কোতোয়াল মৃত্যুবরণ করেছেন।

শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর্জা মো. হজরত আলী বলেন, ‘দুই ঘণ্টা যুক্তিতর্কের পর এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। মামলাটি গত ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় বাদী পক্ষের ২৮ জন ও আসামি পক্ষের ২৫ জন সাক্ষ্যপ্রদান করেন। বর্তমানে ৫২ জন আসামির মধ্যে ২৬ জন জেল হাজতে, ১৩ জন জামিনে ও ১৩ জন পলাতক রয়েছেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান এ রায়ে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন প্রকৃত আসামীকে আড়াল করে আদালত এ রায় প্রকাশ করেছে। তারা খুব শীঘ্রই উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপিল করবেন।

হাবীবুর রহমানের ছেলে জেলা জজকোটের এপিপি ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, আমার বাবা ও চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি।


error: Content is protected !!