বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ৯ বৈশাখ, ১৪২৮, ৯ রমজান, ১৪৪২
বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ আসামীর ফাঁসির আদেশ, সাধারন মানুষের সন্তোষ প্রকাশ

কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ আসামীর ফাঁসির আদেশ, সাধারন মানুষের সন্তোষ প্রকাশ

গোপালগঞ্জ : দীর্ঘ ২১ বছর পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ আসামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ। নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আদালত যে রায় ঘোষণা করেছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। সেই সাথে রায় দ্রæত কার্যকর করারও দাবী জানাচ্ছি। আদালতের উপর আমাদের আস্তা ছিল সঠিক বিচার পাবো। আদালত সে আস্থা রেখেছে।

জানাগেছে, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে জনসভা হবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ২১ জুলাই জনসভা স্থল থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ দুইদিন পর ২৩ জুলাই ৮০ কেজি ওজনের আরো একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক নূর হোসেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। এরপর ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর সিআইডির সাবেক এএসপি আব্দুল কাহার আকন্দ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। দীর্ঘ শুনানীর পর ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদলত ১৪ আসামী মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। এরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজিবি) বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে ৯ জন কারাগারে ও ৫ জন পলাতক রয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোট নাসির আহম্মেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান, জেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল্লাহ রাজু, কোটালীপাড়া কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল ও গোপালগঞ্জ সদর দীিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা দ্রæত কার্যকর করে দেশে দৃস্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জঙ্গীরা যেন দেশে আর কোন দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগে সাধারন সম্পাদ মো: বাবুল শেখ বলেন, ওই জন সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগ দেবার কথা ছিলো। যদি ওই দিন বোমা বøাস্ট হতো তাহলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতৃবুন্দসহ সাধারন মানুষ নিহত হতেন। এ রায়ে আমারা খুশি। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবী জানাচ্ছি।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হক বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ অত্যান্ত খুশি। এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আগামীতে জঙ্গীরা দেশে বা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কোন সদস্যের উপর যেন এই ধরনের কার্যকলাপ করতে না পারে তাই রায় দ্রæত বাস্তবায়নের দাবী জানাচ্ছি।


error: Content is protected !!