শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮, ২ শাওয়াল, ১৪৪২
শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

করোনা কেড়ে নিলো আরও সাড়ে ১২ হাজার প্রাণ

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক: দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছেই। ক্রমেই যেন আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে এই ভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা। করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট শঙ্কিত করে তুলছে মানুষকে। টিকা নিয়েও পুরোপুরি নিস্তার মিলছে না। এরইমধ্যে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৪ কোটি ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১২ হাজার ৫১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও আট লাখ ৩০ হাজার ৫২ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এক পর্যায়ে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে আশার কথা হচ্ছে, এরইমধ্যে করোনার একাধিক টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৪ কোটি পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৪২৫। এর মধ্যে ৩০ লাখ ১২ হাজার সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০৯ জন।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ২৩ লাখ পাঁচ হাজার ৯১২। মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪২ জনের।

আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩। এর মধ্যে এক লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪২। এর মধ্যে তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ১১ হাজার ৭৭৯। এর মধ্যে ১০ হাজার ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ৪৮৩। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনও মানুষ এই সংখ্যা (সরকারি পরিসংখ্যান) নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন।’

মহামারির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছিল, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের ভূমিকা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবিকে আরও জোরালো করে চীনের উহানের ল্যাবের এক ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ানের বক্তব্য। লি মেং ইয়ান বলেন, চীনের ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছে করোনাভাইরাস। এটি মানুষের তৈরি বলে তার কাছে শতভাগ প্রমাণ রয়েছে।

হংকংয়ে জন্ম নেওয়া ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ান পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। চীন হত্যা করতে চেয়েছিল বলে ভয়ে মার্কিন মুলুকে পালিয়ে যান তিনি।

এদিকে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার শুরুর দিকের সময়কার মূল তথ্যগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তদন্ত দলকে সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীন। তথ্যগুলো বিস্তারিতভাবে না দিয়ে সারমর্ম আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কিভাবে করোনা মহামারির সূচনা হয়েছিল, এর উৎস কী, তা জানার প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


error: Content is protected !!