শনিবার, ১৫ মে, ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮, ২ শাওয়াল, ১৪৪২
শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কর্মময় জীবনে ফিরলেন ৪৩ ভিক্ষুক

ছবি: নিউজ ১৬ বিডি. নেট

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার চৌরখুলী গ্রামের ভিক্ষুক সোনামতি বেগম। বয়স এখন ৭০। করতেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তির অভিশাপ থেকে চেয়েছিলেন মুক্তি। চাইছিলেন না আর ভিক্ষা করতে। আজ তার ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি মিলে একজন শ্রমিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ হলো।

তিনি বলেন, ভিক্ষা নয় আমি কাজ করে খেতে চাই। ভিক্ষায় কোন সম্মান নেই। এতদিন কোন কাজ পাইনি। তাই ভিক্ষা করছি। প্যাকেট ফ্যাক্টারীতে কাজ পেয়েছি। আমি এখন এখানে চাকরি করে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারবো। তার মত একই প্রত্যাশা ভিক্ষাবৃত্তি ছেলে শ্রমিক হিসাবে আত্ম প্রকাশ করা আরো ৪২জন শ্রমিকের।

কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামে উপজেলা প্রশাসনকর্তৃক নির্মিত প্যাকেজিং ফ্যাক্টারীতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করবেন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেয়া এ ৪৩ জন শ্রমিক।

ছবি: নিউজ ১৬ বিডি

আজ শনিবার (০১ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ৪৩জন ভিক্ষুকের হাতে শ্রমিক হিসাবে তাদের নিয়োগপত্র তুলে দেন। এর আগে তিনি ফিতা কেটে “অবলম্বন” নামে এ প্যাকেজিং ফ্যাক্টারীটির উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মহসীন উদ্দিন, পৌর মেয়র হাজী মো: কামাল হোসেন শেখ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: নিউজ ১৬ বিডি

জানাগেছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়ণে এ প্যাকেজিং ফ্যাক্টারীর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে এ ফ্যাক্টারীর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এই ৪৩ জন ভিক্ষুক এখন থেকে এই ফ্যাক্টারীতে কাজ করবেন। ভিক্ষুকের হাত এখন থেকে হয়ে উঠবে কর্মজীবীর হাত।

চৌরখুলী গ্রামের ভিক্ষুক রেখা বেগম, ডালিম বেগম বলেন, আমরা আগে ভিক্ষাবৃত্তি করে চলতাম। কিন্তু এতে কোন সম্মান নেই। কেউ আমাদের দাম দেয় না। এতদিন ধরে একটি কাজ খুচ্ছিলাম। কিন্তু কোথাও কাজ পাইনি। তবে উপজেলা প্রশাসন ফ্যাক্টারী নির্মাণ করে আমাদের চাকরি দিয়েছে। এমন আমরা প্ররিশ্রম করে জীবন চালাতে পারবো। সম্মানের সাথে সমাজে চলতে পারবো।

কুশলা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল বলেন, কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামের ৪৩ নারী-পুরুষ জন্ম-জন্মান্তরে ভিক্ষাবৃত্তি পেশার সাথে জড়িত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ পেশা থেকে উত্তরণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। কিন্তু কখনোই তাদেরকে এ পেশা থেকে নিবৃত করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যেগে একটি প্যাকেজিং ফ্যাক্টরী নির্মাণ করে তাদের চাকরী দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম মাহফুজুর রহমান বলেন, কোটালীপাড়ায় প্যাকেজিং ফ্যাক্টারীতে উৎপাদিত কাগজের প্যাকেটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণে সরকারি অর্থায়নে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ফ্যাক্টারীর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে যারা কাজ করবেন তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এই ফ্যাক্টারীতে যে ৪৩ জন ভিক্ষুক কাজ করবেন তাদের প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। এছাড়াও এই ফ্যাক্টারীতে উৎপাদিত কাগজের তৈরী প্যাকেট বিক্রির লভ্যাংশের একটি অংশ তারা পাবেন। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের এ উদ্যোগ সফল হলে পরিবর্তন হবে চৌরখুলীর, পরিবর্তন হবে কোটালীপাড়ার।

ছবি: নিউজ ১৬ বিডি

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ভিক্ষা নয়, কর্মময় হবে ৪৩ জন ভিক্ষুকের জীবন। এরা এখন কাজ করে সংসার চালাতে পারবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে। আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ হবে। এ ক্ষুদ্র উদ্যোগটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।


error: Content is protected !!