মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮, ১৬ জিলহজ, ১৪৪২
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

কলেজ ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফ দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, মানসিক সমস্যা বলে দায় সাড়ার চেষ্টা অধ্যক্ষের।

কলেজ ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফ দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, মানসিক সমস্যা বলে দায় সাড়ার চেষ্টা অধ্যক্ষের।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে সামসুর রহমান সকরকারি কলেজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে এসে কলেজ ভবনের ৪র্থ তলা থেকে নাবিলা নামের একাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হকের দাবী মেয়েটির পরিবার বলেছেন তার মানসিক সমস্যা রয়েছে।

শনিবার (২৬ জুন) সকাল ১১ টার দিকে সরকারি শামসুর রহমান কলেজের ৫ তলা অনার্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নাবিলা নলমুড়ি ইউনিয়নের ডাটা খান এলাকার ফিরোজ আহমেদের মেয়ে।
সে সরকারি সামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।

বান্ধুবী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য কলেজে আসেন একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। নাবিলাও আসেন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া জন্য। জমা দেওয়ার পর মাঠে দাড়িয়ে নাবিলা ও তার বান্ধুবীরা কথা বলতেছিল। হঠাৎ নাবিলা তার এক বান্ধবীর কাছে ব্যাগ রেখে কলেজ ভবনে যায়, পরে ওই ভবনের ৪র্থ তলা থেকে লাফ দেয় ওই শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে তাকে গোসাইরহাট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

বান্ধুবী নিপা আক্তার জানান, আমরা চার পাঁচ জন বান্ধবী মিলে মাঠে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম। নাবিলা আমার কাছে ব্যাগ টি রেখে অনার্স ভবনে দিকে যায়। আমি ডাক দিলে আসতেছে বলে চলে যায়। হঠাৎ চিৎকার শুনতে পাই, দৌড়ে গিয়ে দেখি নাবিলা মাটিতে পড়ে আছে। আমরা ও স্যারেরা মিলে ওরে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আরেক বান্ধবী সারমিন শিলা জানান, নাবিলা খুব ভাল মেয়ে, ও পর্দা করে চলে। আমাদের জানামতে ওর সাথে কারও কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। কেন্ ও এই কাজটা করলো আমরা বুঝতেছি না। আমরা এক সাথেই বাড়ি থেকে এসেছিলাম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য। এক মাঠে দাড়িয়ে কথাও বলেছিলাম। বাড়ি যাবো এই মুহূর্তে ও কলেজ ভবনে গিয়ে এ কান্ডটি করে ফেললো।

স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র জানান, কলেজের ভবনটি নিরাপদ নয়, সামনের সাইডটি যদি আটকানো থাকতে তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না। সামনে আবারও যে কেউ এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি মনে করি প্রিন্সিপাল স্যারের রুমের মত যদি সব ভবনের রুমের সামনে এ ধরনের গ্রীল দিয়ে আটকানো থাকতো তাহলে ভবনটি নিরাপদ থাকতো।

কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুর হক বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য কলেজে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকল শিক্ষার্থীকে জমা দেওয়ার জন্য আমরা বলে দিয়েছি। সকালে সেই অনুযায়ী অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে শিক্ষার্থীরা আসেন। নাবিলাও আসেন। সে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে বান্ধুবীদের সাথে দাড়িয়ে কথা বলতেছিলেন। হঠাৎ নাকি সে ব্যাগ একাদশ শ্রেণীর আরেক ছাত্রী তার বান্ধবী নিপার কাছে রেখে অনার্স ভবনে যান। সেখান থেকে সে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যান। কেন বা কি কারণে সে এই লাফ দিয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি নাবিলা কে জিজ্ঞাস করেছিলাম তুমি কেন এ কাজ করেছো। সে বলে আমি লাফ দিয়েছি। তবে কেন দিয়েছে তা সে বলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমি নাবিলার দাদীর সাথে কথা বলেছিলাম সে জানিয়েছে নাবিলার মাানসিক সমস্যা রয়েছে। সে নামাজ পড়তে থাকলে পড়তে ই থাকে থামানো যায় না। নাবিলা কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। যাতে করে তার চিকিৎসা টা ঠিক মত হয়।

নলমুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, নাবিলা একটি ভাল মেয়ে। সে আমার ইউনিয়নের মেয়ে, আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। কেন্ সে এ কাজ করলো, তা জানি না, বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।
গোসাইরহাট থানার এস আই আবুল কালাম জানান, কলেজ থেকে খবর দেওয়ার পর তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ছুটে যাই, পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ওই ছাত্রী সুস্থ হলে তার কাছ থেকে মুল ঘটনা জানতে পারবো।

গোসাইরহাট হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান মিঞা জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এক কলেজ ছাত্রীকে গুরুত্বর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার ডান হাতের জয়েন্ট সহ শরীরের কয়েকটি জয়েন্ট ভেঙ্গে যায় এবং অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুপুরের পর ঢাকায় রেফার করে দেই। তিনি আশঙ্কা মুক্ত তবে শারীরিক অবস্থা বেশি ভাল না। দীর্ঘদিন তাকে চিকিৎসা নিতে হবে।


error: Content is protected !!