মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮, ১৩ সফর, ১৪৪৩
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আপন আঙিনায় ফুল দিয়ে বরণ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান। ছবি: নিউজ ১৬ বিডি।

শরীয়তপুর: টানা দেড় বছর পর শরীয়তপুর জেলার আট শত ২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রিয় প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষার্থীরা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি আনন্দিত শিক্ষকরাও। প্রিয় ছেলে-মেয়েদের বরণ করে নিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। তাদের ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্যানিটাইজার, শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পথে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে দেওয়া হয়েছে চিহ্ন।

শরীয়তপুর কালেক্টর স্কুলে সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন মোঃ পারভেজ হাসান।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ পারভেজ হাসান জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা মাত্রই লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত ধুয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করে। তারা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলো। প্রত্যক শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরে ছয়শত ৯৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রত্যকটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থবিধি মেনে পাঠদান করা হয়েছে। যে সব বিদ্যালয়ে পানি রয়েছে সেসব বিদ্যালয়ে বিকল্পভাবে পাঠদান করা হয়েছে।

মজিদ জরিনা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এম ফরিদ আল হোসাইন বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুল খুলেছি। এরআগে গোটা স্কুল ক্যাম্পাস, ক্লাস রুম, বাচ্চাদের কমন রুম, টয়লেট- সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় দূরত্ব ঠিক রাখতে মার্কিং করা হয়েছে, ক্লাস রুমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিক্ষকরাও খুব খুশি স্কুল খুলতে পেরে। আশা করছি, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারবো। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকবে না। তিনি বলেন, ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত, প্রাইমারি লেভেলে পঞ্চম শ্রেণি এছাড়া অন্য ক্লাসের বাচ্চাদের একদিন করে ক্লাস নেওয়া হবে।

শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ এমারাত হোসেন মিয়া জানান, জেলায় সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে পাঠদান করা সম্ভব হয়েছে। যে সকল বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ওঠে ছিলো, পানি কমে যাওয়ায় সে সব বিদ্যালয় গুলোতেও পাঠদান করা সম্ভব হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার ৬৯৮ টি স্কুলে যাতে নিয়মিত মনিটরিং চলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে ১৫টি স্কুল মনিটরিং করবো। এছাড়া আমাদের অন্য কর্মকর্তারাও ১০টি থেকে শুরু করে ১৫টি স্কুল প্রতিদিন মনিটরিং করবেন। স্কুল খুলে দেওয়ায় বাচ্চার খুব খুশি। সাথে সাথে আমরাও খুশি প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারায়।


error: Content is protected !!