মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬ আশ্বিন, ১৪২৮, ১৩ সফর, ১৪৪৩
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আনসার আলী স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

আনসার আলী স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

যশোর : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ মশিয়ূর রহমান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করার পিছনে যে যড়যন্ত্র হয়েছিল, সেই ষড়যন্ত্রের পিছন থেকে যারা জড়িত ছিল তাদেরকে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে বাঙ্গলী জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে কমিশন গঠন করা উচিত। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই দাবী করছি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করার সুযোগ সৃস্টি হয়েছে, তাদের বিচার করা হয়েছে। কিন্তু খুনি মুশতাক-জিয়াগংদেরকে বিচার করা যায়নি। এই খুনিরদের আগেই মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬-তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুরে আনসার আলী স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আনসার আলী স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি অধ‍্যক্ষ সরদার লতিফের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি তাপস মন্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির যশোর জেলা সদস্য, মণিরামপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমরেড সঞ্জিত বিশ্বাস, মশিয়াহাটি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক রাসিদা পারভীন, মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর রায়, প্রথম শ্রেণির অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবিসি বাংলা ৭১ ডটকমের সহ-সম্পাদক সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক আবদুস শহিদ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শোক দিবস শুধু বাংলাদেশেই নয় সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। পৃথিবীতে অন্য কোন নেতা নেই যার শোক দিবস সারা বিশ্বে পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের এক লক্ষ স্থানে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আনসার আলী স্মৃতি পাঠাগার কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, খুনি মোশতাক-জিয়াগংরাই হলো প্রকৃত খুনি এবং তাদের বিচারটি যদি প্রচলিত আইনে করা যেত তাহলে বাঙ্গলী জাতি খুশি হতো। ১৫ আগষ্টের হত্যাকান্ডের খুনিদের সাথে যে সকল ষড়যন্ত্রকারীরা জড়িত ছিল, যে সমস্ত কুশিলবরা এই অমানবিক হত্যাকান্ডের পথ তৈরী করেছে, বা পটভূমি সৃস্টি করেছে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পয্যায়ে তাদের যে অপরাজনীতি, সেই অপরাজনতি বন্ধের জন্য রাজনীতি থেকে চির নির্বাসন করতে হবে। স্বাভাবিক ধারার রাজনীতি এবং শান্তি সম্প্রতি-অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানের মধ্যে দিয়ে এইসব কুশিলবদেরকে, খুনিদেরকে রাজনীতি থেকে চির নির্বাসন ঘটিয়ে শান্তির বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো।

এসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন বিলেয়ে দিয়েছেন দেশের জন্য, দু:খী মানুষের জন্য। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে যারা হত্যা করেছিল, সেই সব খুনিদের বিচার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করেছেন।
ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মধ্যে অনেককেই শাস্তি দেয়া হয়েছে। পলাতক ৫ খুনীর মধ্যে দুইজনের ঠিকানা পাওয়া গেছে। একজন আমেরিকায় ও অপরজন কানাডায় রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস আমেরিকায় যে খুনি পলাতক রয়েছে তাকে স্বদেশে এনে দ্রুত বিচারের সম্মুখিন করা হবে। শুনেছি তাকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্ঠা করা হচ্ছে। তবে বাকী তিনজনের সঠিক কোন ঠিকানা পাওয়া যায় নি।
এসময় পাঠাগারের পাঠক, সদস্য, কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।


error: Content is protected !!