চিকিৎসক স্ত্রীর প্রতি আদর্শবান স্বামীর অনুভূতি।

291
স্বামী মমতাজ শিকদার জানান আমার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার সিনিয়র স্টাফ নার্সিং কর্মকর্তা শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট হাসপাতাল মাতুয়াইল ঢাকায় কর্মরত,নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ মৌচাক আমাদের বসবাস,বাসা থেকে আমার স্ত্রীর কর্মস্থল প্রায় ৬ মাইল দূরত্ব,এমতাবস্থায় তাঁকে আমি প্রশ্ন করি এই মহামারী করোনা ভাইরাসে সরকার সাধারণ ছুটির মাধ্যমে যারযার বাসায় নিরাপদে থাকার ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সম্পুর্ন লকডাওন করেছে।
এতদিন না হয় টুকটাক রিক্সা চলাচলের মাধ্যমে কর্মস্থলে যাতায়ত করলেও এখন তাওতো বন্ধ,হাঁটি হাটি পাপা করে তুমি এতদূর কর্মস্থলে কি ভাবে সকাল দুপুর রাতে যাবে, যেহেতু তোমাদের সিপ টিং ডিউটি,হাসপাতালে তোমাদের জন্য পরিবহন সেবাও নাই,তবে না-হয় তুমি কয়দিন ছুটি না-ও, উত্তরে আমার স্ত্রী আমাকে বুঝালা ঃ-দেখ হাসপাতালে চাকরি করি এটা একটা মহৎ পেশা এখানে বেহেস্ত এ-ই খানে জাহান্নাম এই মহামারি করোনা ভাইরাস দূর্যোগ মোকাবেলায় আমি যদি স্বার্তপরের মত ঘরে বসে থাকি তবে আমার পেশা ও মানবজাতির কাছে চরমভাবে বেইমানি করা হবে এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ-ই ধরনের বেইমানির ক্ষমা করবেন না।
আমাকে এই মহামারীর মাহা বিপদে বিপদগ্রস্ত অসহায় অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করার সুযোগ দাও,এতে আমি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত বরন করলেও আমার পেশাগত দ্বায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান অটুট থাকবে,তুমি শুধু আমার জন্য দোয়া কর আমি যেন সঠিক সময়ে কর্মস্থলে গিয়ে মানব সেবা প্রদান করতে পারি,তাঁর এমন দেশাত্মবোধ মমত্ববোধ পেশাগত দ্বায়িত্বের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাশীল অনুভূতি শুনে আমি মুগ্ধ আমি গর্বীত এমন স্ত্রী পেয়ে,আমি তার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি,আল্লাহ আমাদের সকলকেই সকল ধরনের মহামারী থেকে হেফাজত দান করুন আমিন।